Latest Post



ক্ষীণ বাওয়া, যেন পদাঙ্ক পলে কাল ফনা
                  বিষকায় বিষ ধলে,মুহূরী কালো মর্মিতা
                                               রুদ্ধ পেহলি নিপাতে যৌবন যবে লুপতি
                                                                      ঠাঁই নেই এবে, যাও দূরে যেথা পাও কাল
                                                                                        পৃথিবীতে সঙ্গখেলা দুয়ারে মিলি অহেরি।
                                                                       দিবেনা তল কার্যে আবার জিন্দা দিনকাল
                                             বৃথাই থাকো শুয়ে মৃ্‌্‌তি্রকায় জনম স্মৃতি
                   যামিনী হানে ছল্লাবার পিশে বক্ষ রন্দ্রেতা
নিভে যায় গিয়াছে রক্ত তিথি মৃত মরণা।



                                                                                  এবে ছিলি,আজি নেই,ফানা ফানা বন্দি জাল
                                                       হয়ে থাকে হবে এমনি তৃষা চমক পাতি
                              ফুল মরনে যাও পবনে সত্যিতো সবিতা
বিধিতায় শ্যাম গাঁথা নিলয় যাবার মনা,
                            ধনমান মল্লিকা বহর মানবী তিথিতা
                                                        সবে পর নীড় অপর দাউ দাউ হিলতি
                                                                                    নর্দমায় পস্তাবত অনন্তকাল সেকাল।


    গত তিন দিন ধরে বশির স্কুলে যায় না। আমেনা বেগমও ওকে স্কুলে যেতে তাগিদ দেন না। বশির উঁচু টিবির ওপর একা বসে কী যেন ভাবছে। ওখানে সে প্রায়ই বসে থাকে। আমেনা বেগম সকাল থেকে বশিরকে খুঁজছে। না খেয়ে ছেলেটা কোথায় গেল ! বশির মা মা ডাক দিয়ে এসে বলল, খেতে দাও খুব ক্ষুধা পেয়েছে। বশির খাবার খাচ্ছে ও বলছে, জানো মা আজ আমার মনটা খুব ভাল লাগছে। তোমার মুখ পানে চেয়ে থাকতে ইচ্ছে করছে, কত যেন মায়া ওতে লেগে আছে। 
তোর মুখে এই সব কথা আগে তো কভু শুনিনি। আজ কি হয়েছে রে তোর?
একটু আগে একজন বুড়ো মহিলার সাথে দেখা ও কথা হল, তিনি আমাকে ইংগিত করে বললেন। আমার ছেলে যদি থাকতো তাহলে তোমার মত এত বড় হতো, আমাকে ভিক্ষা করতে দিত না। আমি বললাম সে কোথায় থাকে? তিনি বললেন হারিয়ে গেছে, জানি না কোথায় আছে। কত পথ প্রান্তরে খোঁজা খুঁজি করেছি পাইনি তবে মনে বিশ্বাস আছে বাজানরে আমার বুকে ফিরে পাবো। আমি বললাম, আপনার ছেলেকে এতো দিনে দেখলে চিনবেন? তিনি বললেন, চিনবোনা মানে সে তো তোমার মত।
আমেনা বেগমের চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। বশির না দেখার আগেই তা নিজের কাপড়ের আঁচল দিয়ে মুছে নিলেন। বাবলু বাড়িতে নেই। আজ বাড়ি ফিরবে। তার এক বন্ধুর বিয়েতে গেছে। বশিরকে যেতে বলেছিল, যায় নি। বশির খাওয়া শেষ করে তার নিজের ঘরে চলে গেল। আমেনা বেগম আর খেতে পারলেন না। বুকটা কেমন যেন করছে ! মায়ের মনে সন্দেহ, ছেলেকে হারানোর ভয় জেগেছে।
আমেনা বেগম জানেন বশির তার পেটে ধরা সন্তান নয়, নিজের সন্তান না হলেও এতোটুকু অবহেলা কিংবা বকাঝকা করেননি বশিরকে, যেটুকু বাবলুকে করেছেন।
আমেনা বেগমের মনে শান্তি নেই। তাঁর ভাবনা শুধু বশিরকে নিয়ে, ও যদি জানতে চায় যে, সে নিজে দুই বছর আগে কোথায় ছিল ! তখন উত্তর দিব ! তিনি নিজেকে অনেকবার প্রশ্ন করলেন তাতে কোন সমাধান খুঁজে পেলেন না। শুধু বুকটা হাহাকার করছে। বশিরকে পেটে ধরা ছাড়া আর কী করিনি ! খাওয়ার পর নিজের আঁচল দিয়ে মুখ মুছে দিয়েছি, কোন অসুখ হলে সারারাত জেগে সেবা করেছি, এই বলে আমেনা বেগম আত্মনাদ করছেন। গত দুই বছরের সব স্মৃতি আমেনা বেগমকে তাড়া করছে।
পাশের ঘর থেকে বশির এসে বলল, মা একটা কথা বলব?
আমেনা বেগমের বুকটা নাড়া দিয়ে উঠলো। আঁচল দিয়ে চোখ মুছে জানতে চাইলেন কি বলবি বাবা বল?
মা তোমার যদি আপত্তি না থাকে তাহলে আমরা তিনজন একত্রে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যেতে চাই। শুনেছি জায়গাটা খুব সুন্দর। সাগরের ঢেউ, সূর্য ডুবার দৃশ্য, জোয়ার ভাটা আর কত কী !
ঠিক আছে তাহলে আমরা আগামীকাল রাত দশটার ট্রেনে রওনা হবো।
বাবলু তো খুশিতে আত্মহারা, এই প্রথম সমুদ্রের ঢেউ দেখবে, শামুকের মালা, লোনা পানি ইত্যাদি। আমেনা বেগমের যাওয়ার তেমন কোন ইচ্ছা ছিল না, তবুও বশির যেহেতু ইচ্ছা প্রকাশ করেছে সেই কারণে যাওয়া।
শীতকাল। কাপড় চোপর নিয়ে রাত দশটার ট্রেনে রওনা হল। হিম বায়ুতে ট্রেন ঝনঝন শব্দে চলছে। বশিরের এই সময় কার কথা যেন মনে পড়ছে। কে যেন অনেক বার সমুদ্র সৈকত দেখতে যেতে চেয়েছিল কিন্তু আর যাওয়া হয়নি। তার নামটা মনে আসছেনা। আজ বশির যাচ্ছে হয়তো ভাল লাগবে না কিংবা লাগতেও পারে ! বিভিন্ন্ন কথা বশিরকে জড়িয়ে ধরলো।
ট্রেন স্টেশনে থেমেছে। ওরা তিনজন ট্রেন থেকে নেমে এক হোটেলে উঠলো। সকালের নান্তা শেষ করে বশিররা সমুদ্র তীরে গেল। কত হাজারে হাজার মানুষ এসেছে সমুদ্র তীরে তাদের আপন কাছের মানুষকে নিয়ে। কিন্তু বশির একাকি দাঁড়িয়ে ঢেউগুলোর দিকে তাঁকিয়ে আছে। যদিও ওর মা ও ভাই সাথে এসেছে তবুও ভালো লাগছেনা।
বশিরের মন আজ ঢেউগুলোর সাথে মিশে যেতে চায় দূর মহনায়, যেখানে শুধু প্রেমের বন্দর, নেই রিক্ততা, কোন হতাশা। কোন বিরহের সুর নেই। বশির একটি বড় পাথরের ওপর বসে আছে। হঠাৎ ভাবনায় একটি কবিতা লিখে ফেললো সমুদ্রের ঢেউকে উদ্দেশ্য করে---
ঢেউ তুমি ঢেউয়ের মত
                       আমার মত নও  তো,
 আমার মত আমার প্রিয়া 
                                                                              তুমি তা জানো তো ।
দুপুরের খাবার শেষ করে আবার সমুদ্রের ঢেউ দেখতে গেল ওরা। তারপর হিমছড়ি চললো। ঝরনার পাড়ে দাঁড়িয়ে বশির এক দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে তার কলকল শব্দ শুনতে পেল।
সন্ধার আগে ওরা তিনজন হোটেলে ফিরলো। রাত নয়টার ট্রেনে ফিরতে হবে। যে সার্ট ও প্যান্ট পড়ে জলে নেমেছিল তা লোনায় দাগ হয়ে গেছে। সার্টের পকেটে লবন ভরে গেছে। কিছু হালকা খাবার খেয়ে নিল তিন জন। এই সমুদ্র সৈকত বিদায় দিয়ে বশিরের কিছুতেই যেতে মন চাইছে না। এই সৈকতের মাঝে বশির একজনকে খুঁজে পেয়েছিল অদৃশ্য আবেশে। কিছুটা সুখের পরশ উঁকি দিয়েছিল। এই সামান্য সময় বশিরের হৃদয়ে গাঁথা থাকবে।
জানালা বেয়ে বাহিরের দিকে তাঁকিয়ে আছে বশির। মনে হয় গাছপালা বাড়িঘর সব পিছনে পালিয়ে যাচ্ছে। বশিরের মনকে তা দোলা দিচ্ছে। আমেনা বেগম, বাবলু ও বশির একই লাইনের সিটে বসে আছে। এগারোটার দিকে বাবলু ও মা ঘুমিয়ে পড়েছে কিন্তু বশিরের চোখে ঘুম আসছে না। তার চোখে শুধু সমুদ্র সৈকতের ঢেউগুলো ভাসছে আর তার কথা মনে পড়ছে। বিভিন্ন কথা ভাবতে ভাবতে হঠাৎ বশিরও ঘুমিয়ে  পড়ে। 
ট্রেন কুমিল্লার কাছাকাছি। পাঁচ ছয়জন মুখোশধারি লোক বশির ও বাবলুর বুকে পিস্তল ধরে বলল, টাকা পয়সা সোনা দানা কাপড় চোপড়  যা আছে সব দিয়ে দে নয়তো ফুটা করে দিব।
আমেনা বেগম ডাকাতদের পায়ে ধরে বলেন, দয়া করে আমাদের যা কিছু আছে সব নিয়ে যান তবুও আমার বাজানদের মারবেন না। বশির ডাকাতদের সাথে একটু জোর করায় মাথায় একটু আঘাত লাগে তাতে ও অজ্ঞান হয়ে যায় । সামনের স্টেশনে ট্রেন থামলো বশিরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল। এত রাতে কী আর রোগী ভর্তি করা যায় ! তবু অনুরুধ করে ভর্তি করা হল। সেদিন আর বাসায় ফেরা হল না। রক্তে বশিরের দেহ ভিজে গেছে। ডাক্তার বললেন, মাথায় আঘাতটা একটু বেশী লেগেছে ব্রেনের ওপর চাপ পড়েছে, বলা যায় না কী হবে। আল্লাহকে ডাকেন।
এই অচেনা এলাকায় বাবলু ও আমেনা বেগম অন্থির হয়ে পড়লেন, কোন চেনা জানা নেই। কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। অনেকক্ষণ পরে হঠাৎ বশির চোখ খুঁললো কিন্তু কোন কথা বলছে না। শুধু মা আমেনা বেগম ও বাবলুর দিকে তাঁকিয়ে আছে।
বশির বিছানায় শুয়ে আছে, আমেনা বেগম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এখন কেমন লাগছে? গতকাল রাতে ট্রেনে আমাদের ওপর ডাকাতরা আক্রমণ করেছিল তখন তুই মাথায় আঘাত পেয়েছিলি আর এই হাসপাতালে এনেছি।
আমি কেন ট্রেনে যাবো, আমি তো আপনাদের চিনি না। আপনারা কে? আমার নন্দিনি কোথায় যাকে নিয়ে আমি পাহাড়ে বেড়াতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ পা পিছলে পড়ে যাই।
আমেনা বেগম অবাক হয়ে বশিরের পানে তাঁকিয়ে রইলেন। বললেন, বাবা বশির আমি তোর মা আর বাবলু তোর ছোট ভাই। আমাদেরকে চিনতে পারছিস না?
কি আবোল তাবোল কথা বলছেন। আপনারা কেন আমার মা ও ভাই হবেন? আমার মায়ের নাম মনিকা বাপের নাম করিম শেখ আর আমার একমাত্র বোন চাপা।
 আমেনা বেগম ডাক্তারকে পাশের ঘরে ডেকে নিয়ে বললেন, একি হয়ে গেল, আমার ছেলে আমাকে চিনতে পারছে না। বাবলুকেও অস্বীকার করছে।
ডাক্তার বললেন; একটি সত্যি কথার উত্তর দিন। বশির কি আপনার পেটে ধরা সন্তান নাকি পালিত সন্তান?
কিছুক্ষণ চুপ থেকে আমেনা বেগম বলেন, বশির আমার পেটে ধরা সন্তান না হলেও নিজের সন্তানের মত স্নেহ মমতা দিয়ে বুকের মাঝে আগলে রেখেছি। কখনও বুঝতে দেইনি দুঃখ কষ্ট কাকে বলে। আর সেই সন্তান যদি আমাকে অস্বীকার করে তাহলে কেমনে বাঁচবো, বলেন ডাক্তার সাহেব?
ওদিকে বশির বলছে, আমি বাবা মার কাছে যাবো, আপনাদের সাথে যাবো না। আমেনা বেগম কাছে গিয়ে বললেন, আগে আমাদের বাসায় চলো তারপর ঠিকানা জেনে তোমাকে তোমার বাবা মা’র কাছে পৌচ্ছে দিব।
ওরা তিনজন গাড়ি চড়ে প্রায় বিকাল চারটার সময় বাসায় ফিরলো। আমেনা বেগমের মনে কোন শান্তি নেই শুধু ফুপিয়ে কাঁদছেন কিন্তু প্রকাশ করতে পারছেন না। বশিরকে তার ঘরে নিয়ে বললেন, মনে করে দেখো তো বশির এই ঘরে তুমি থাকতে গান গাইতে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে। এসব মনে করার চেষ্টা করো !
অন্য কী ঘটেছে আমি জানি না, শুধু আমার চোখের সামনে ভাসছে মা বাবা আমাকে ডেকে বলছেন, ওরে খোকা আমার বুকে আয়। এক মাত্র বোন চাপা, তার মুখ থেকে কতদিন যেন ভাইয়া ডাক শুনিনা। আমি তাদের কাছে যাবো আমাকে সেখানে নিয়ে চলুন। আচ্ছা আপনাদের সংসারে আমার আগমন কতদিন ধরে?
মা আমেনা বেগম একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে উত্তর দিল। গত দুই বৎসর যাবৎ তুমি আমাদের সাথে আছ। এর মাঝে কোনদিন তোমার বাবা মা বোনের কথা তুমি বলোনি। তারা বেঁচে আছে না মরে গেছে তাও তুমি তখন বলতে পারোনি, শুধু কেঁদেছো। আমার ইচ্ছায় তোমায় আমার সন্তানের মত লালন পালন করেছি।  তারপর তোমাকে ক্লাস নাইনে ভর্তি করে দিলাম এ বছর তুমি ক্লাস টেনে।
আমি তো এস এস সি পাস করেছি। যাক- আমাকে যেহেতু আপনি ছেলের মত আদর দিয়ে স্নেহ দিয়ে বুকে ধরে রেখেছেন, সেহেতু আপনি আমার মা। মা আমাকে বলুন, আমাকে কিভাবে খুঁজে পেলেন?
সেদিন আমি আমার এক মাত্র সন্তান বাবলুকে নিয়ে আমার এক আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলাম। প্রায় সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছিল। চারদিকে অন্ধকার, আকাশটা মেঘে ভরা, মেঘের গর্জন মাটি কাঁপিয়ে তুলছিল। তবুও পথ দিয়ে হাঁটছি। হাতে ছিল টর্চ লাইট। হঠাৎ কাছেই পথের ধারে একটা মানুষ পড়ে থাকতে দেখি। রক্ত মাখা মুখ, রক্তে সারা শরীর ভিজে গেছে। মাথায় ক্ষত দাগের চিহ্ন। কনকনে শীতে কাঁপছে। আমি আর বাবলু তাকে তাড়াতাড়ি তুলে মূল পথে নিয়ে এলাম। অনেক কষ্টে একটা ভ্যানে তুলে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। ডাক্তার বললেন, অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে, রক্ত দিতে হবে। ভাগ্য গুণে ঐ হাসপাতালে রক্ত পেয়ে গেলাম। পরের দিন সকাল দশটায় ছেলেটির জ্ঞান ফিরলো। আর আত্মীয় বাড়িতে যাওয়া হল না। আমি জিজ্ঞাসা করলাম তোমার নাম কি? তোমার বাড়ি কোথায়? কে কে আছে তোমার?
কোন উত্তরই দিতে পারল না। শুধু কাঁদতে থাকে। আর সেই থেকে তাকে আমাদের মাঝে রেখে দিলাম। তুমিই হলে সেই বশির। আর কখনও জানতে চাইনি তোমার পরিচয়। নিজের সন্তান বাবলুর সাথে তোমাকেও আদর স্নেহ ভালবাসা দিয়ে বুকে আগলে রেখেছি। কখনও বুঝতে দেইনি তুমি আমার সন্তান না। আজ আমার বুকটা ভেঙ্গে যাচ্ছে কেমনে তোমাকে বিদায় দিব? আচ্ছা বশির তোর পুরানো জীবন সম্পর্কে সব মনে আছে?
জি সব মনে আছে। আপনাকে সব বলব যদি শুনতে চান।
তাহলে বল..
                                                               সমাপ্ত                                     
কবি ও কবিতা

কবি ও কবিতা

রক্তিম ফুলে ভেজা তোমার
অবাক করা দু-খানি চাহনি,
ভুলি নাই আমি ভুলি নাই
কখনো ভুলতে পারিনি।

সন্ধা আকাশের বুকে তুমি আমার
লক্ষ তারার মাঝে একটি চাঁদ,
তুমি আমার বুকের মধ্যেখানে-
থাকো, তোমার চলা অবাধ।

শত রিক্ততা শত ব্যর্থতার মাঝে
কষ্টগুলো আমায় পুড়ায়,
তোমার মাঝে ডুবেছি তবু পাইনা-
কেন, এ হিয়া তলায়।

আকাশের কথা আমার ব্যাথা
একই পথের পথিক,
শূন্য হৃদয় আমার, তোমায় চায়
কখনো দিওনা মনে ধিক।

একা ছিলাম তোমার দেখায় পেয়েছিলুম
সাত সাগরের মহনা,
ফুলশয্যা মরে গেছে চৈত্রের খরায়
তাই আমি আপনার না।

কিছু স্বপ্ন আশায় থাকে
পাওয়া না পাওয়ার গল্প,
হয়তো আমি হারিয়েছি সব
পেয়েছিলাম যে অল্প।
                                                              তারিখ ও সময়:- ২৭/০৬/২০০৫, ১৩-৫০

কবি ও কবিতা

আমি তোমাকে চাই সাঁঝ বেলাতে
যখন গোধূলীর লগ্নে উল্টো আকাশে
মূদু হাওয়া বইতে থাকে,
আর তখন আকাশের তারাগুলো
ক্লান্ত দিন শেষে উদ্ধিপনায় জাগে-
নব স্বর্ন শিহরে।

আমি তোমাকে চাই গভীর রজনীতে
নেই কোন কোলাহল
থাকবেনা কোন স্বার্থযুক্ত চাহিদা।
শুধু তুমি আমি দু-জনা
দুটি মন একই মহনা।
গাইবো গান মন বদলের
আর হারিয়ে যাবো দূর গগণে।

আমি তোমাকে চাই শেষ বিকেলে,
সৃর্যটা ধীরে ধীরে আলোহীন
আর হিমেল হাওয়া বইবে।
কিছু দূরে পাশাপাশি থাকবো-
মনের কথা কইবো
জীবনের তরী ভাসাবো
আর তুমি বৈঠা বইবে
শিশির ভেজা ঘাসের উপর ।

আমি তোমাকে চাই ফুল রুপে,
হৃদয়ের জমিনে মালা গাঁথবো
আর সারি সারিতে ঝুলিয়ে রাখবো
মৌ মৌ গন্ধ ছড়াবে,
কিন্তু মধুর খোঁজ পাবেনা
ভ্রমরগুলো ব্যর্থ ছুটাছুটি করবে !
কারণ, তুমি থাকবে হৃদয়ে বন্দি।

আমি তোমাকে চাই রিমিঝিমি বৃষ্টিতে,
বৈশাখি ঝড়ের প্লাবনে মিশে-
দু-জন মিলে সাঁতার কাটাতে,
আর দূর নদীতে পানকৌড়িগুলো-
জলের সমারহে খেলবে,
তোমার দেহখানি ভিজে যাবে
আমার পানে অপলকে থাকবে।

আমি তোমাকে চাই খর তাপের বেলায়,
সময়টায় তৃষ্ণা লাগে
বুকটা চৌচির হয়ে যায়,
তুমি পাশে থাকিলে, তাহা শিহরন
আমার দেহখানি সতেজ হবে।

আমি তোমাকে চাই দখিন হাওয়ার মাঝে
সর্ব দেহের ক্লানি- যেন নিঃশেষ হয়,
উদিত হয় সুভাসিত লগ্ন।
আমার দেহ খানি নব সাঁজে-
চির সবুজ অরণ্যে ভরে যাবে।
তুমি এসো, এই হৃদয়ে
ভালবাসার বন্ধন মায়ায়,
কোন তর্কে নয় প্রেমের-
পূস্পমেলা মাতাল হাওয়ায়।
                                                            তারিখ ও সময়:- ১১/০৭/২০০৫, ০৯-৫০

কবি ও কবিতা

আমি নইতো কোন যোদ্ধা, তবু
মনের সাথে করি যুদ্ধ,
চারদিকে সন্ত্রাস, হাইজ্যাক, খুন জখমে আবদ্ধ।
আমি নইতো কোন কবি, তবুও লিখে যাই-
আপন মনে সবার সবি।
আমি নইতো কোন চিত্রশিল্পি,
তুমি বাংলার প্রকৃতি করি অনুলিপি।
আমি নইতো কোন কন্ঠশিল্পি,
তবু মনের খেয়ালে গেয়ে যাই দুঃখ সুখের কপি।
আমি নইতো কোন রাখালির বাঁশী,
তবু বেজে চলেছে সুরের আকাশে-
সে শুধুই অভিনাষী।
আমি নইতো কোন ফাগুন বেলার কোকিল,
তবু ডাকি ক্ষণে ক্ষণে নেই তার মিল।
আমি নইতো কোন মায়ের যোগ্য সন্তান,
তবু আমার দায়িত্ব রাখিতে হবে মান।
আমি নইতা কোন সন্ত্রাসি-
তবু সেই পথে ধাবিত, কারণ
মায়ের মুখে আহার দিয়ে দেখিতে হাসি।
আমি নইতো কোন খুনি,
তবু খুন করি তাদের, যাদের জন্য-
সমাজ আজ কলংকিনি।
আমি চাই না হতে ক্ষমতাধর,
তবু চাই তাদের জন্য যারা-
পায় না খাবার পায় না কাপড়।
আমি চাইনা কৃত্রিম ভালবাসান্নিত,
তবু চাই তাদের, যারা আজ শত যন্ত্রনা-
দুঃখে কষ্টে জর্জরিত।
আমি নইতো কোন হিংস্রো প্রাণী,
তবু গর্জন আমার মাটি কাঁপানো-
এই ফুল মেলা অরণ্যে, অবাধ্যে প্রানহানী।
আমার নেই কোন মন দুঃখ কষ্ট বেদনায় আহত,
তবু চাই কারণ, সবাই আজ-
এ মর্ম কাতরে আক্রান্ত ।
আমি চাই আমার দেহ হবে লৌহের মত,
মায়ের চোখের জল মুছে দিব-
আছে যে কষ্টের ক্ষত।
আমি চাইনা দৃষ্টি,
সইতে পারবোনা মা বোনের আহাজারি-
আমি খেতে চাইনা অন্ন্‌ আহার,
যে অভাবে শতত মা কাঁদে দ্বারে দ্বার।
আমি চাইনা এই আলো বাতাস,
যাহা মুছিতে পারেনা আঁখি জল-
কোন সর্বনাষের আভাস।
আমি চাই বারেবার চাই সেই পরিবেশ
পূর্ণতা পাবে সকল মৌলিক চাহিদা, অশেষ।
                                                          তারিখ ও সময়:- ১৭/০৬/২০০৫, ১০-১০

কবি ও কবিতা

যাইনি আমি মুছে, এই ধুলায়-
পানির সাথে মিশে কোন সুদূরে,
পূর্বে যাহা ছিলাম একটু বদলে নেই
রেখেছি ভালবাসা অন্তরে ।
তুমি পেরেছো মুছতে তোমা হৃদয় থেকে,
দোষ তোমার দিব না-
স্বপ্ন হয়ে জেগে আছো চোখে ।
তুমি নীল আকাশের মাঝে একটি চাঁদ,
আমার ভুল শুধু জানি একটাই
ভালবেসে তোমায় করেছি অপরাধ।
কখন যেন বিকেল শেষ হয়েছে
আমার হৃদয় বুঝতে পারেনি,
সে ছিল অন্ধ বিশ্বাসের দৃষ্টি মেলে
তুমি তারে বুঝতে চাওনি।
ভুল করেছি কিনা জানি না,
তবুও তুমি আমার অঙ্গে মাখা জোছনা,
বুকের খাঁচা মেলে রেখেছি,
যদি পাই তোমায় সাঁঝের আগে-
সত্যি ফুল ফুটবে চিরন্তন প্রেমের।
অথৈই গভীর জলে দু-জনার মন,
ভেলায় ভেসে ভেসে কোন-
অচেনা সাগরে মিশে যাবে
যদি দুটি হৃদয়ের হয় স্পন্দন।
                                                         তারিখ ও সময়:- ০১/০৭/২০০৫, ১৫-২৫

কবি ও কবিতা

রাত নয়টার ফ্লাইটে খলিল মিয়া ঢাকা ত্যাগ করবেন। যাবেন বিদেশ টাকা রোজগারের জন্য । বেলা এগারোটার মধ্যে বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। সাথে এগিয়ে দিতে কালুর মামা যান।
দু-মাস মাস পেরিয়ে যায় খলিল মিয়ার কোন খোঁজ খবর পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়ির সবাই চিন্তায় খাওয়া দাওয়া ছেড়েই দিয়েছে। বীণা শুধু জানতে চায় বাবা কবে আসবে মা ? বাবার কথা খুব মনে পড়ছে।
তাহের মিয়া বাহির থেকে ডাকছেন, কালু ঘরে আছিস ? এই নি তোর বাপের চিঠি এসেছে। কালু দ্রত ঘরের বাহিরে এসে চিঠিটা নিয়ে বীণা ও মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ছে। সবার মনে একটা অজানা আশঙ্কা, না জানি কী খবর ! চিঠি পড়া শেষ, মনটা মোটামুটি শান্ত হল । 
এভাবেই খলিল মিয়ার বিদেশ কাল পাঁচ বছর পেরিয়ে গেল। বিদেশ থেকে নিয়মিত টাকা পাঠান। সেই টাকা দিয়ে দুই সন্তানের পড়াশোনাসহ সংসার চলছে।

খলিল মিয়া পাঁচ ক্লাস পর্যন্ত লেখা পড়া করেছিলেন তারপর আর লেখাপড়া করার ভাগ্য হয়নি। তিনি অন্যের জমি বর্গা চাষ করতেন, সারাদিন কাজ করে রাতে ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ছেলে কী লেখাপড়া করছে তা দেখার জন্যে দুই মাইল দূরে নিজের কাজ বাদ দিয়ে মাঝে মাঝে কালুর স্কুলে যান। কালু তার নানার বাড়িতে থেকে ওখানের স্কুলে পড়ে। ক্লাসে ঊপস্থিতি কম। তাতে খলিল মিয়া সন্তুষ্টি হতে পারেন না। ওই স্কুল বাদ দিয়ে আবার নিজের গ্রামের স্কুলে ভর্তি করে দেন। এভাবেই চলতে থাকে ।
    পরীক্ষা শেষে ভাই বোন মিলে নানা নানীর বাড়ি বেড়াতে যায়। ওখান থেকে মেঝ মামীর মেয়ে হয়েছে তাকে দেখতে যাবে তাদের বাড়িতে। নৌকায় চড়ে যাবে। নৌকায় চড়ে আত্মীয় বাড়ি যাওয়ার মজাই আলাদা। এক লাফে নৌকা থেকে নেমে দৌড়ে মামীর বাড়ির দিকে চলে যায়।
    কী সুন্দর চেহারা ! আকাশ থেকে যেন চাঁদ খানা ছিড়ে এসেছে, আর তা সবাই দেখছে। বীণা বলল, ভাইয়া কিছু ভাবছো?
    কী আর ভাববো বিধাতার সৃষ্টি দেখলাম ।
    দুপুরের খাওয়া শেষ করে বিকেলের দিকে ওরা সবাই আবার বাড়ি ফিরলো। বীণা বলল, ভাইয়া মেয়েটি নাম কি রেখেছে?
   ঝরনা ।
   কী সুন্দর নাম ! মনে হয় পাহাড় থেকে কলকল শব্দে জল নামছে, তাই না?
   কবি হয়ে গেলি নাকি?

খলিল মিয়া ভাবছেন এই অভাবের সংসারে কিভাবে সন্তান দুটোকে মানুষ করব ! বিদেশ গেলে কেমন হয় ! কিন্তু এত টাকা পাব কোথায় ? যেখানে দু-বেলা দু-মুঠো ভাত জোটে না, সেখানে আবার বিদেশ !
      বছিরন বিবি কাঁধে হাত দিয়ে বললেন, কি ভাবছো ?
      ভাবছি এই অভাবের সংসার আর কত দূর ! সন্তানদের লেখাপড়া করাতে হবে। বিদেশ গেলে কেমন হয়?
      ঠিক কথা বলেছো। আমার বাপের বাড়ি থেকে হাজার বিশেক টাকা আনতে পারবো আর বাকি টাকা আমাদের ঘরের পূর্ব দিকের জমিটা বিক্রি করলে হয়ে যাবে।
      বাপের পুরানো জমিটা বিক্রি করলে তো আর কিছুই থাকলো না। থাক যাবো না।
      জমি দিয়ে তুমি কি করবে, সন্তানদের যদি শিক্ষিত করতে না পারলে? এতোকাল তো অন্যের কাছে মুজুরী খাটতেই গেল।
      খলিল মিয়া ভাবলো যুক্তিটা মন্দ হয় না। সন্ধ্যা দিকে কালু ও বীণা বাড়ি ফিরল। মা, মা, বলে মাকে জড়িয়ে ধরলো ওরা ভাই বোন। বছিরন বিবি বলেন, সাত দিন যেন সাত বছরের মত মনে হয়েছে। বীণা বলে মা আমরা ভাই বোন যদি কোথাও হারিয়ে যাই তাহলে তুমি কি করবে? 
      অমন কথা বলতে নেই। তোরা আমার প্রাণ তোরা আমার জীবন।
      কাদের মিয়া দাঁড়িয়ে সন্তান ও বউয়ের দৃশ্য দেখে ভাবছেন, এই সন্তানদের রেখে কেমনে আমি বিদেশ গিয়ে থাকবো ! কেমনে দু-চোখের আড়াল করে রাখবো ! পরক্ষণে আবার নিজেকে বুঝায়। সন্তান ও স্ত্রীর এই হাসি ভরা মুখ দেখতে চাইলে আমাকে বিদেশ গিয়ে টাকা উপার্জন করতেই হবে, এই আমার প্রতিজ্ঞা। 
      বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল হয়েছে। কালু প্রথম হয়েছে। বাপ ছেলেকে নিয়ে যে আশা করতেন আজ তার বাস্তবায়ন শুরু । খলিল মিয়া বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়ে খোদার কাছে দোয়া করছেন- তুমি বাজানরে অনেক জ্ঞান বুদ্ধি দান করো।

      গ্রামের দুষ্ট ছেলেদের সাথে কালু চলাফেরা করে। রাত দশটার সময় বাড়ি ফেরে। একদিন ওর মা বলেন, তোর এই ব্যবহারের জন্য কী তোর বাপ বিদেশ থাকতেছে এত কষ্ট করে?
      স্কুলের গন্ডি কালু এখনো পার করতে পারেনি। লেখাপড়ায় তেমন ভালো না। বাড়ি থেকে প্রতিদিন স্কুলের কথা বলে যায় কিন্তু স্কুলে যায়না, কোথায় যেন চলে যায়। ক্লাসের উপস্থিতি খুবই কম। মায়ের কথা কালু শুনে না। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষায় দুইবারই ফেল। তবুও সে খবর বাপকে জানানো হয়নি।
      মায়ের কথায় কালু কোন জবাব দেয় না। ঘরে গিয়ে বসে ভাবে, আমি ভালো হয়ে যাবো। ভালো ভাবে লেখাপড়া করবো। বাবা মায়ের আশা পূরণ করব। পরের দিন সকালে কালু স্কুলে যায় । আজ কোন স্কুল পালানো নয়, সরাসরি ক্লাসে যাচ্ছে। পথে তার একই বয়সের অনেকেই বলল, আবার স্কুলে যাওয়া শুরু করলি নাকি? কালু বলে কি আর করবো, এভাবে আর কতদিন বাউন্ডুলে হয়ে ঘুরবো? তোরাও আমার পথে যোগ দে।
     রাত অনেক হয়েছে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিলে কী সময়ের কথা মনে থাকে ! পথ দিয়ে যাচ্ছে আর বিন্দিয়ার কথা ভাবছে। হঠাৎ উহ্‌ শব্দে কালু মাটিতে পড়ে গেল। মাথা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। আর কিছু মনে নেই।
      ঘটনাটা দুদিন আগেই হয়েছে। স্কুলে গানের অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে কালু ও বিন্দিয়াসহ অনেকেই গান গেয়েছে। ভালো গানের জন্য পুরস্কারে ব্যবস্থাও ছিল। কালু ও বিন্দিয়া তা পায়। বিন্দিয়ার চাচাতো ভাই ববিও গান গেয়েছিল কিন্তু পুরস্কার পায়নি।
      স্যার হাত তুলে কালু ও বিন্দিয়াকে ভালো গানের জন্য প্রশংসা করে। ববির তা সহ্য হয়নি। পরের দিন কালু ও বিন্দিয়া হাতে হাত রেখে অনেকক্ষণ হেঁটে হেঁটে গল্পও করেছে, তা ববি দেখেছে। নিজের চাচাতো বোনের হাতে হাত রেখেছে কালু ! যে করেই হোক ওকে শাস্তি পেতেই হবে, ববির এই প্রতিজ্ঞা। দিনটাও পেয়ে যায়। সাথে ববির আরও সহযোগি ছিল।
      এক বিপদের ওপর আরেক বিপদ। কিছুক্ষণ আগেই বিদেশ থেকে খবর এসেছে খলিল মিয়ার অবস্থা খারাপ। তিনি অসর্তকতায় উপর দিকে তাঁকিয়ে কাজ করতেই পা ফসকে এক কুপে পড়ে যান। অনেক্ষণ পরে তাঁকে তুলতেই দেখে অর্ধেক মৃত হয়ে গেছে। প্রয়োজনিয় অক্সিজেনের অভাব ছিল কুপে। হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বলা যায় না কী হবে !
      কালুও হাসপাতাল বেডে শুয়ে আছে, সাথে মা ও বোন। অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে শরীরটা সাদাটে হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে এক ব্যাগ রক্তও দেওয়া হয়েছে। বাপের খবর কালুকে জানানো হয়নি। শুধু বছিরন বিবি ও বীণা তা ভেবে আড়ালে চোখের জল ফেলছে।
      পরিবার থেকে সকল স্বপ্ন ধুয়ে মুছে গেল। ক’দিন আগেও স্বপ্নের সাঁকো সচল ছিল, পরিবারে সুখ ছিল। কালু নেই, তার বাপও নেই। বছিরন বিবি এক গভীর জলে পড়ে হাবুডুবু করছে, কোন ঠিক ঠিকানা নেই।
বীণার বয়স হয়েছে। টাকার অভাবে বিয়ে দিতে পারছেন না মা। অনেক ঘটকের কাছে বলে রাখলেও লাভ হচ্ছে না। মা মেয়ে শুয়ে আছে। ঘরের বেড়া পাট খড়ি দিয়ে বাঁধা। রাতে বেড়ায় মাঝে মাঝে খটখচ শব্দ করে। মায়ের মন চমকে উঠে। ঘরে যুবতি মেয়ে, কে না আবার কোন চিন্তায় কী করে ! নিজের চিন্তা তিনি করেন না, মেয়েটোকে বিয়ে দিতে পারলেই সকল পাওয়া হবে।
     বাড়িতে অনেক মানুষের ভীড়। এক সাথে মা ও মেয়ের জানাযার হবে। গত রাতেই ঘটনাটা হয়েছে। ছিল ঝড়ের রাত। চিৎকার করলেও বেশী দূরে শব্দ যায়নি। এসেছিল বীণাকে তুলে নিতে, তাতে বছিরন বিবি বাধা দেওয়ায় তাঁকেও মরতে হল।
       কেউ নেই সংসারে। কে মামলা করবে? সরকার বাদী হয়ে করবে? কোন ফায়দা নেই। কয়েকবার হাজিরা চলবে আসামীদের, তারপর সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে। একটা পরিবার ধ্বংশ হল। সেই সংসারের কটা মানুষের স্বপ্ন আশা চুরমার হয়ে গেল।
                                                               সমাপ্ত






কবি ও কবিতাএলার্ম দিয়ে রাখা ঘড়িটা বেজে ওঠছে। অবিরাম ভাবে এক মিনিট বাজার পর পাঁচ মিনিট বিরতি দিয়ে আবার শুরু হয়। এভাবেই আধা ঘন্টা ধরে চলছে। রাতের বেলায় ক্ষুদ্র শব্দও অনেক দূর চলে যায়। আর তা যদি হয় জোছনা রাতে তবে তো কথাই নেই। জোছনা ও অন্ধকার রাতে শব্দ আলাদা ভাবে কম  কি বেশী দূরের যাওয়ার কারণ নেই।  যে যেটা পছন্দ করে সে সেটাকেই এগিয়ে রাখবে। লেখকের মনোভাব হয়তো জোছনার প্রতি দূর্বল আছে।  তাই তিনি জোছনাকে প্রধান্য দিচ্ছে।
    যা-ই হোক, আজ জোছনা নেই, অন্ধকারের সাথে সামান্য মেঘের ভাব। এই বৃষ্টি নামছে আবার এই থেসে যাচ্ছে। মজু এই অল্প বৃষ্টির মধ্যেই কাক ভেজার মত হয়ে কাঁপছে। এখনো বাসায় যেতে অনেক পথ পড়ে আছে। শহরই পেরুতে পারেনি, তারপর সেই গ্রাম। বাড়িতে যাওয়ার ভাবনা বাদ দিয়ে আশেপাশেই কোথাও রাতটা পার করার কথা ভাবছে। কিন্তু কে দেবে তাকে এমন ভরসা !
    এই এলাকায় মজুর অনেক যাতায়াত থাকলেও পরিচিত কেউ নেই। তাছাড়া দোকানপাট বন্ধ করে বাসায় চলে গেছে সবাই। যারা জেগে আছে তারা সবাই নাইট গার্ড কিংবা চিরচেনা কুকুরের দলপল।
    রাতের বেলায় সাধারণত ওরা সবাই একত্রে বসে আলাপ করে। গার্ডদের সাথে কুকুরদের ভালো মিল মহাব্বত থাকে। ভয়ের সময় যখন চিৎকার করার সুযোগ থাকে না তখন ওই কুকুরগুলোই ঘেউ ঘেউ করে লোকজনকে জাগাতে সাহায্য করে। চোর কিংবা ডাকাতদের পরিকল্পনা বিফলে যায়।
    মজু এদিক সেদিক তাঁকিয়ে কোন মানুষের দেখা না পেয়ে কিছুটা ভয়ে পেলো। ব্যাগের পকেটে থাকা একটা কলা বের করে খেতে খেতে মূল পথের দিয়ে এগিয়ে যায়। একটা ছোট আলো দেখা যাচ্ছে, পাশেই কয়েকজন গল্প করছে। মজু পকেটে থাকা ক’টা টাকা পায়ের সু-য়ের মোজার ভিতরে রেখে মাথার চুল চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে গিয়ে বলল, এই যে ভাই,  আমি খুব বিপদে পড়েছি। একটু সাহায্য করতে পারেন ?
    দূর থেকে অনেক লোকের আলাপচারিতার ভাব দেখা গেলেও আসলে ততজন নয়। দু্‌জন লোকের একজন ইয়া মোটা কালো ও খাটো, পরের জনও কালো তবে কঙ্কাল। সুট টাই পড়া দেখে ওরা দুজন বলল, তা মাল পানি আছে নাকি? কিছূ ফালান, তয় ভাইবা দেখার পামু কি করা যায়।
    মাল পানি কি মজু বুঝতে না পেয়ে আবার জানতে চায়, আমার কাছে কোন পানি নেই, একটু ছিল কলা খাওয়ার পর খেয়েছি।
    লোক দুটো শোয়া থেকে ওঠে তাদের নিজেদের মাঝে কথা বলে, আজকের ইনকাম মনে হয় বালা অইবো। মজুর দিকে তাঁকিয়ে  বলে, বাড়ি কেলা, কই যাইতান ?
    এমন খাপ ছাড়া আঞ্চলিক ভাষা মজু বুঝতে না পেয়ে অবিরাম মাথা নাড়তে থাকে। এমন বিপদের সময় কোন কিছুতে না বলতে নেই। মোটা লোকটা উঠে মজুর দাঁড়িয়ে থাকার চারপাশে একটা চক্কর দেয়। সাথে থাকা লাঁঠি দিযে মজুর ব্যাগে খোঁচা দেয়। বলে, ব্যাগে কি আছে ? চিকন লোকটাও একই ভাবে চক্কর দেয়। মোটা লোকটাকে সন্ত্রাসী ধরনের মনে হলেও চিকনটাকে মনে হয়না। হয়তো নতুন এসেছে, শেখার চেষ্টা করছে।
    ফিল্মে একটা নায়িকাকে ঘিরে যেমন গুন্ডারা চারদিকে চক্কর দেয় তেমন করছে। মজু বুঝতে পারল, কিছু একটা হবে। ব্যাগে কিছু নেই কিন্তু' সমস্যা হল কিছুই না পেয়ে যদি ছোরা টোরা দিয়ে আঘাত করে ! তখন তো মুখ থেকে সত্য কথা বের হয়ে আসবে। ওই ক'টা টাকার জন্যে তো একটা প্রেমিক জীবন মরে যেতে পারেনা।
    সকল ভয় ফেলে মজু বলল, কি ব্যাপার বলুন তো এমন পাগলের মত ঘুরছেন কেন ? বলুন, আমায় কোন সাহায্য করতে পারবেন কিনা ? ওইতো সামনে আরেকটা আলো দেখা যাচ্ছে নয় তো ওদিকে যাবো।
    মোটা লোকটার চোখের চাহনি ভালো মনে হলো না। মজুকে রেখে সে একটু ভিতরে গেল। মজু পরের জনের কাছে জানতে চায়, টেনিং- এর মেয়াদ কয় দিন হল ? ভালো ভাবে সব কিছু পরখ করো, যখন একা মূল কাজে নেমে পড়বে ভালোভাবে না শিখলে বসের ছোরার ধাক্কা খাবে।
    চিকন লোকটা দাঁড়িয়ে ভাবছে, এ দেখি গুরুর চেয়ে বড় গুরু। আর দেরি না করে সেও ভিতর চলে যায়। একটু পরে দুজনেই একটা চেয়ার নিয়ে এসে মজুকে বসতে দিয়ে বলে, বস আপনার কাজ কোন এলাকায় ? কাশেম ভাইকে চেনেন ? ক’দিন আগেই তিনি বলেছিলেন নতুন বস আসার কথা। আপনি, মনে হয় সেই লোক। বস ভুল হয়ে গেছে, ক্ষমা করে দিন। আপনাকে এক্ষুণি থাকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।
    মজু হাসবে না কাঁদবে ভেবে পাচ্ছে না। কি বললাম আর কি হল ! সবলের সাথে কখনো দূর্বল ভাব দেখাতে নেই, সবলরা নয়তো দূর্বলকে আরও দূর্বল মনে করে আঘাত করবে ।
    মজুর ক্ষুধা পেয়েছে, বলল, সুটকি মাছের ঝোল দিয়ে ভাত হবে ?
    বস মাফ করেন, এমন পঁচা মাছের ঝোল আপনি খাবেন তা মানায় না, বোয়াল মাছের ঝোল রাঁধা আছে। আজই কাশেম ভাই পাঠিয়েছে, মনে হয় আপনারই জন্যে।
    মজুর জন্য থাকার ব্যবস্থা হল। ভাবছে, কোন ভাবে যদি ওরা জানতে পারে আমি কিছূই না তবে মাগার কাল্লা থাকবে না। শুয়ে শুয়ে মজু অনেক কিছুই ভাবছে। এখন রাত দুইটার কাছাকাছি, আর ঘন্টা দুই পরেই ফজরের আযান হবে, তার আগেই বিদায় হতে হবে। আসলজন এসে গেলে আমাকে কেউ বাঁচাতে পারবেনা। বাহিরে ওদের দুজনের সাথে আর ক'জন মিলে পাঁচ ছয়জন হয়েছে। নিজেদের মাঝে আলাপ হচ্ছে, আজ অন্য সব কাজ বাদ, বসের সেবা করতে হবে। সেবার কমতির খবর ছোট বস জানলে মরার পর লাশ কবরেরও যাবেনা।
    মজু ভাবছে, প্রথমে কোন ভরসা না পাওয়াই ছিল শূভ, এখন পেয়েও মহা সমস্যা। বুকের ভিতরে কাঁপা কাঁপা ভাব। বিভিন্ন বুদ্ধির ভীড়ে আসল যে বুদ্ধিটা এখান থেকে মুক্ত হওয়া পথ বের করবে তা ধরা দিচ্ছে না। নিজের মাথায় দুটো মৃধূ থাপ্পড় দিলেও কাজ হচ্ছেনা। মজুর বুদ্ধির সবই সমানতরাল, মানে যখন সমস্যায় পড়বে তখন খুলে যাবে বুদ্ধির কারখানা।
    মজু বাথরুমে ঢুকে বেশী করে পানি দিয়ে হাত মুখ ধুয়ে নিল। মরার আগে আর হয়তো পানি পাওয়া যাবেনা। টেবিলে রাখা স্নো পাউডার মুখে ও মাথায় তেল মেখে নিল। পকেট থেকে বের করা ছোট আয়নার মাঝে নিজের চেহেরাটা শেষবারের মত দেখে নিল। পায়ের মোজায় রাখা টাকাটা বের করে বুক পকেটে রাখল, যাতে মরার পর কেউ ওগুলো নিয়ে খরচ করতে পারে।
    মজু এখন ফন্দি করছে, কীভাবে বের হবে। কোন পদ্দতিতে সফল হওয়া যাবে ! হঠাৎ করেই বলল, এই তোরাব কই গেলি ?
    চিকন লোকটা দ্রত এসে বলল, আমি তমিজ, কি করতে হবে বলুন বস ?
    যাক- বাবা নাম তাহলে জানা গেল, প্রথমেই সফল। শোন আমি এসেছি সবার কাজ স্বচক্ষে গোপনে দেখার জন্য, ঘূমানোর জন্যে নয়। বুঝলি ? তাই আমি এখন বের হবো। তোরা এখানেই থাক, চালাকি করে আবার কাছের কাউকে আমি আসছি বলিস না।
    তমিজের পা ষাট কিঃমিঃ বেগে কাঁপছে। হয়তো ভয়ে ও পড়েই যাবে। তার আগেই সরতে হবে, ভাবছে মজু।
    কিছূ দূর যাওয়ার পরই তার মত একজন লোককে মজু সামনে পেলো। কাঁধে ব্যাগ ঝুলানো। মুখটা শুকিয়ে গেছে। জানতে চাইল মজুর কাছে, কোথায় যাবেনা ভাই ?
    অপরিচিত লোকদের কাছে রাতের বেলায় দূরে যাবো, বিপদে পড়েছি এমন কথা বলতে নেই। তবুও মজু বলল, চলেন একটু ওদিকে গিয়ে বসি। আমি আর আপনি হয়তো একই বিপদে পড়েছি। কোন দিকে যাবেন ? দেখি উভয়ে উভয়কে কোন সহযোগিতা করতে পারি কিনা?
    না, আমি অবশ্য খুব বিপদে নেই, হয়তো আমার লোকেরা কাছেই আছে। ফটিক ও তমিজ।
    তমিজের নাম শুনেই মজু বসা থেকে ওঠে দাঁড়ালো। মনে ভয় লেগে গেল। ভাবছে, তমিজরা যে বসের আশায় আমাকে এতো আদর যত্ন করল উনি মনে হয় তিনি। কোন রকম ছুঁতো দিয়ে অন্য দিকে থাকতে পারে এমন দিশা দিয়ে লোকটাকে যেতে বলল।
    মজু পেছনে আর না তাঁকিয়ে পথ ধরে যাইতেছে। ড্রিম লাইটের আলোতে চলতে কোন ভয়ই হচ্ছে না। একটু পর পরই একটা করে দুর পাল্লার গাড়ি দ্রত চলে যাচ্ছে। আর কুকুদের ঘেউ ঘেউ তো নতুন কিছু নয়। এখন ভয় অনেকটা নেই, তবুও...। হাত তুলে মজু দূর পাল্লার গাড়িকে থামাতে চেষ্টা করছে। সব চেষ্টাই বৃথা। এক কিঃমিঃ হাঁটার পর একটু করে পেছনে তাঁকায়, ভয়টা একদম কাটেনি। পেছন থেকে কোন গাড়ির লাইট দেখলেই একটু আড়ালে গিয়ে দাঁড়ায়, বলা যায় না শালারা যদি এসে...। বসকে পেয়ে যুক্তি করে না আবার মারতে আসে মজুকে।
    এতোক্ষণে যে ওদের মাঝে তাকে নিয়ে আলাপ শুরু হয়ে গেছে তা মজু নিশ্চিত ভাবে বুঝে গেছে। এখন মজুকে ওরা পেলে কচু কাটার মত খন্ড খন্ড করবে। প্রায় দশটা গাড়ি দেখে মজু আড়ালে গিয়ে পালিয়েছিল। না, ওরা জানলেও আর আমাকে খূঁজতে আসবেনা। আকাশে মেঘ নেই, এই সময়ে পথের মধ্য দিয়ে আকাশে তাঁকিয়ে গান গেয়ে হাঁটার মজাই আলাদা। সাথে যদি কোন বন্ধু থাকে তাহলে তো সর্বত্তম।
    মজু ভাবছে, স্রষ্টার ইচ্ছায় যদি বাড়ি যেতে পারি তবে কালই ওদের কৃর্তী কলাপের কথা পুলিশকে জানাবো। র‌্যাবের কাছে খূঁলে বলব। ভালো সেজে ভন্ডামি কাজ তখন বেরে হয়ে যাবে।
    পেছন থেকে একটা বাইক হর্ন বাজিয়ে আসছে। মজু মাঝ পথ থেকে হাঁটা বাদ দিয়ে সাইট হল। বাইকটা আর এগুলো না। মজুর সামনে গিয়ে থামল। মজু বাইকের লাইটের কারণে কিছু দেখতে পেলো না। তমিজসহ সেই মোটা লোকটা নেমে সালাম দিয়ে মজুকে বলল, বস, দেখতে এলাম কোন কোন দিকে আপনি খোঁজ খবর নিতেছেন।
    মজুর গলা শুকিয়ে গেছে। পা কাঁপছে। এবার বুঝি আর রক্ষ্যে নেই। মাথা না ঘুরিয়ে চোখদ্বয় চারদিকে হালকা পোচ দিয়ে দেখল বাঁচার কোন পথ আছে কিনা। ডান দিকে লম্বা একটা খাল চলে গেছে। খালে পানি আছে। বাম দিকে কিছূ জোপ জঙ্গলের মত দেখা যায়। সামনে পেছনে মূল সড়ক। এই যখন অবস্থা তখনই কিছুক্ষণ আগে দেখা লোকটি বাইক থেকে নেমে এলো লম্বা একটা দা হাতে নিয়ে। 
    মজুর আত্মা যেন আর বুকে নেই। তিন দিকে তারা আর মধ্যে মজু। একজন ছাড়া বাকি দুজনেই মজুর চেয়ে শক্তিশালি হবে। বিপদের সময় মজুর মাথা থেকে হঠাৎ করেই বুদ্ধি বের হয়। এখন বের হবে কিনা তা ভাবছে। লোক তিনজন প্রশ্ন করে যাচ্ছে। মজু কোন জবাব দিচ্ছে না। তিনজনের হাতে দা ছাড়াও আরও কিছু থাকতে পারে।
    মজু নিজের প্যান্টের চেইন খুলে বলল, সরে দাঁড়ান একটু পেচ্ছাব করতে দিন। মরার আগে আসামী যা বলে তা শোনা উচিত।
    কীসের পেচ্ছার করা মজুর ! এক ফন্দি মাত্র। দ্রুত প্যান্ট ও সার্ট খূলে ব্যাগে ভরল। জুতা পড়ে দৌড়ানো যায় না। তাছাড়া টাকা তো মোজার ভিতরে আছে। মজু বসের কাছে এগিয়ে গিয়ে বলল, মরার পর অনেক সময় শুয়ে থাকতে হবে, ব্যায়াম করা যাবেনা। স্লিম বডিটা থুলথুলে হয়ে যাবো। তাই আজ একটু দৌড়িয়ে লই। আপনার যা দেহ ব্যয়াম না করলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। ডায়বেটিক হতে পারে।
    তিনজনই ভাবল কথাটা মন্দ নয়। সবার আগে বসকে দিয়ে সিরিয়ালই মজু সবার শেষের আগে দাঁঁড়িয়ে সবাই দৌড়াতে থাকে। এক কিঃমিঃ যাওয়ার পর মজু পেছন থেকে চিকন মানুষটার গলায় ধরে শ্বাস নালিটা ভেঙে ফেলে ধাক্কা দিয়ে খালে ফেলে দেয়। একটুপর সামনেরজন বলে তমিজ গেল কই?
    মজু বলে আমরা যেতে থাকি, ও পেচ্ছাব করে আসছে।
    পরের দুটোই মোটা। যা-ই হোক। জায়গা মত ধরতে পারলেই কয়েক সেকেন্ডেই অর্ধমরা কিংবা মারা যাবে।  কোন দিন কাউকে একটা ঘুসিও মজু কাউকে দেয়নি। সেখানে একটা আস্ত মানুষকে মেরে ফেলল ! শরীরে ঘামের মধ্যেও সাহসের একটা জোস সৃষ্টি হচ্ছে মজুর। প্রয়োজনে অনেক কিছুই করতে হয়। যা করার তারাতাড়ি করতে হবে, এমন ভেবে মজু সামনের লোকটাকে নিজের পা দিয়ে একটু আটকে দেয়। ধপাস করে পড়ে যায়। বস পেছনে না তাঁকিয়ে চলছে। ও বাবা গো বলার আগেই একই ধারায় গলা চেপে ধরে মজু। ডান পায়ের গোড়া দিয়ে শ্বাস নালিতে দুটো লাথি দেয়।
    দুটো শেষ। এখন যদি বস সব জেনেও যায় কোন সমস্যা করতে পারবে না। পেছন থেকে কোন আনা-গোনা না পাওয়ায় বস পেছনে তাঁকায়। মজু বলে ওদের দুজনেরই হাগুর টান পড়েছে, আসেন আমরা আবার দাঁড়িয়ে থাকবো কেন?
    ওসবের টান নেই আমার, তোর থাকলে সেরে ল।
    আমার ভয় করে, চলেন না একটু, কাছেই দাঁড়িয়ে থাকবেন।
    বস নিজের নাক  চেপে ধরেও আগাম গুয়ের গন্ধ পেলেন। মরার আগে আসামীর আবদার শুনতে হয়,তা বুঝে বললেন, ঠিক আছে চলেন।
    মজুর ছোরা কিংবা বন্দুক চালানোর অভ্যেস না থাকলেও বাংলার বাঁশ চালানোর অভ্যেস আছে। বসার আগে পাশের কোথাও থেকে একটা বাঁশ জোগার করে।
    বস বলে ও দিয়ে কী হবে ?
    শৃগালের ভয় আছে না? আপনি কি ভয় পান ওকে? আর কথা নয়, আপনি দাঁড়ান, তারাতারি বসে পড়ি নয়তো কাপড় নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। পানি ? সমস্যা হয়ে গেল যে বস, আপনি একটু ব্যবস্থা করেন না।
    কীসের হাগুর টান? সবই মজুর চালাকি, ইচ্ছে করলে মজু এখন পালাতে পারে কিন্তু তা করবে না। শালার বসের বাচ্চা বসকে পোন্দানি না দিয়ে যাওয়া নয়। বস একটা সিগারেট ধরিয়ে সুখ টান দিচ্ছে। মজু সে প্যান্ট অর্ধেক খোঁলা অবস্থায়ই পেছন থেকে বাঁশ দিয়ে আঘাত করে সকল দুই নাম্বারি শেষ করে দিল।

    চোখের ঝিম ঝিম ভাব দুহাতে ঘসে মজু বিছানার ওপর বসে থাকে। এলার্মের ঘড়িটা বন্ধ করে, ঘরের চালের দিকে তাঁকিয়ে ভাবে, এ আমি স্বপ্নে কি করলাম ! তিন তিনটা মানুষকে আস্ত খতম করলাম। ভয়ে মজুর গায়ের পশম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। নিজের হাতের দিতে নজর ফেলে বলছে, এই হাতদ্বয় ! তোরা মানুষ হয়ে মানুষকে মারতে পারলি !   
    ইতিমধ্যে চারদিকে কোলাহল বাড়তে থাকে। ফজরের আযান দিতে আর বেশী দেরি নেই। মজু ওজু করে মসজিদে গিয়ে নামাজর পড়ে স্রষ্টার কাছে ক্ষমার জন্য কাঁদতে থাকে।
                            সমাপ্ত    
                               ০৩-০৮-২০১২
         

কবি ও কবিতা

চুম্বন দাও রক্তের ভিতরে মিশে হোক কলরব,
গান গাইতে পারিনা, নয়তো-
আমি সেই কলরবে সুর তুলে চিৎকার করে বলতাম,
আমার প্রিয়া আমায় ভালোবেসেছে,
সাত আসমান পেরিয়ে যাবে সেই বিশালতা।
চুম্বন দাও দেহের থার্মোমিটারে, তার গতি বেড়ে যাক
খুঁলে যাক বাতাসের বহুতল
যেখানে আমি স্বপ্নের সাঁকো বেঁধেছি।
ওখানেই আমি হাঁটবো, তোমার চুলের গন্ধ নেবো
তোমার আঁচলে আমার মুখ ঢেকে যাবে।
চুম্বন দাও জীবনের বুকে,
কোষ থেকে কোষান্তরে চলে যাক চেতনা বোধ,
দেহের প্রতিটি শিরা ধমনী দুরন্ত হোক।
আমি কলরব শুনতে চাই, কোন নীরবতা ভালো লাগে না,
কামনার রসের রসবোধ আমি বুঝিনা,
আমায় বুঝাবে কী ?
এই তোমার কাছে এলাম, একটা কিছু নিয়ে যাবোই।
চুম্বন দাও ঠোঁটে ঠোঁঁট মেখে,
লাগাতার হরতাল ভেঙে যাক সমাজ সংসার থেকে,
এক জোড়া উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা কী
চুম্বন ছাড়া জীবন বরবাদ করতে পারে ?
পারে না, পারা উচিত নয়
তা হতে হবে বৈধ উপায়ে, অবৈধ নয়।

২১-০২-২০১২


কবি ও কবিতা

ধরো আমার এই হাত,
এই হাত শুধু তোমারি স্পর্শ পেয়েছে,
অন্য কিছু ধরলেও তার মাঝে স্পর্শ ছিল না,
ভালবাসার কোন ছোঁয়া ছিল না,
ছিল না তাতে হৃদয়ের লেনাদেনা।
এখানে শুধু তুমি আর আমি,
দুটি মন, একই রেখাংশে,
চার জোড়া হাত পা, একই বৃত্তের ভিতরে।
এখন বিকেল, বাতাসের সাথে আমরা-
মিলেছি প্রেমান-র পালে,
অনেকগুলো স্বপ্ন আমাদের চোখে ভিড় করছে,
একটা ছোট্ট ঘর, একটা ছোট্ট সংসার,
একটা নেশা, এক জোড়া মাতাল মাতালি-
মেতেছে প্রেমের সপ্তডিঙ্গায় ভর করে ;
তারপর কি ?

sislam8405

{Facebook#https://www.facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

luoman থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget