Articles by "আলো আঁধারে"

আলো আঁধারে
নদীর কূলে বসি মহাযুগের পাতা উল্টায়ে
বৃন্দাবনের দামিনী দৌড়ায় রুদ্ধ পশলায়ে,
দেখিনা তাই কাননের কলি মায়া-
উঠিলোকি উজাটন বক্ষের দ্বারে, ছোঁয়ে কায়া ?
সময় নেই চলি তবে যথা পাই তথা
আত্মার শামে দোলহান দিব্য, সুখের গাঁথা
আমি আমারি শত যুগের পর অন্যথায়
ধূসর মেঘের আঁচলে মরা যৌবন যেথায়
দেখিনা শান্তির নিশানা উপুড় বায়ে পায়।
২৯
ভালবাসার কবিতাগুলো ভালবাসার জন্য আসে-
রক্তের রন্দ্র থেকে একাকারে মিশে মিশে
জানেনা তারা অন্যমুখি ঢের
স্বার্থবাঁধি কামনায় ভুলি কমল নেয় না অর্থকরি ফের-
জনম থাকে তাহার রুপকার রুপায়নে
বাসনি- ফুলের চারিধারে মর্মে গাঁথা লাল পিরানে।
যতদূর যাই দেখি আর্বে দু-জনার নিপানা
গর্জে বর্ষে ফুল মৌনতার ফাগুন মন্ত্রনা
সুখের সন্ধানে পিয়ানার প্রেম মনা।
৩০
বলিনি কভু আমায় মনে রাখো প্রিয়তমা
বাঁশরি করিয়া বৃথাই পালঙ্কে অঙ্গহানি কুমা,
জাত জুলুমাতে ফিঙ্গের ঢালে
পূজন কপলে চন্দ্রিমার তীলক ঢেলে,
বলিনি এই মঞ্চে তোমার কাঙ্খিতা-
তোমায় করিলো জোর ক্রন্দনের বাসুমতা,
শুধু কহি দেখিয়াছিলেম চেতনার পালে
আত্মায় পুষি তাই কি যেন কোন আরালে-
স্বপ্ন সাধের উলঙ্গ মন মাতালে।

আলো আঁধারে
আমারে পরাহত কেন দানবের গোড়ে ?
রক্ষা করো মোরে (প্রভু) করুণার ডোরে,
জ্যাতি ভৎসনায় পাকুকায় নাঁচালে-
ছবি মনায়, ছন্দে অভয়ে নির্ভিতের কোলে
দিও বাতাসের ছমকা তিল কাম লহরী
দিও শোকরানার বাতায়ন খোঁলে মুক্তপুরী।
থাকি যেন সদা জিন্দা ঘরবাসে
মানুষের মনুষত্বে আত্মার কারুকাজে মিশে,
মৃত্তিকার ভিতর ফুলকির পাশে।
২৬
তোমাদের কথা বলো আজি আজিকার
বদ নছিবের কূপে আঁধার কিংবা আলোকার,
সাগরের গর্জনে উঠা দিব্য কামশাপে
লাশ হওয়ার ধরুন ফতেকার ফুলকি ধাপে-
আগে পিছে ডানে বামে হুম হুমানলে
যাতনার দহনে দুঃখ সুখের নীলে,
বুকের ভিতরে যাহার নজরানা চুম্বন
সাধুতায় পাথর চুল্লির পাশে যৌবন-
দিব আমি, দাও তবেই হবে রৌমন।
২৭
এসো করি খেলা মাতোবনের দুয়ারে
জল মেলার আবেশে সঙ্গ সঙ্গির চৌধারে,
বৈশাখি বায়ে শ্রাবনের ঢালা বিচালে
মন ছন্দে মাতাল, পল্লীর কেতন দলে।
এসো করি স্পর্শবেলী লগ্নতার বাহিরে
সমপন কাননে কুসুম কলির ভিতরে,
বৃষ্টির দেনাপাওনা সন্ধামালতীর চোখের পাতায়
ভাললাগার দুপাতা পল্লবের সুপ্ত বাসনায়
আলিঙ্গন মধুর তির্থে যাযাবর রহমায়।

আলো আঁধারে
নারী তোমাদের তরে খেয়া পালকি
নছিবের দুয়ারে হানে পৃথিবীর শানকি,
খুঁলিয়া দেখো তাহা? পাবে অমূল্য রতন
জামিন নামার শানে রত্ন পাথু চুম্বন।
দিল রাগ লহরী ধুমকেতুর পায়ে নূপুর জোড়া
চৌধারে তোমার সম্মানে অতল পয়রা,
ভাললাগার দেয়ালে তাম্মলিপির চেহারা
লুকিয়ে রেখ জন্মান্তরে পাবে মান মনিরা,
জপমালার জাতি উচ্চে, শুধু তোমরা।
২৩
বারেবারে বাঁধা পড়ি পয়রার নিগাঢ়ে
বিকুন্ঠ কাননে দেখি খেলা ঘর মুছড়ে,
বাতিখানি নিভিয়া সাম্য ভৌমিক নিপাতে
দেখিনা সম্ভল আমার ছিল রক্তের সাথে।
নজর চলে যায় নজরানায় দোলনার নিচে
কাফনে ধরা কুৎসিত মনিকা কী কভু বাঁচে?
যেতে হবে ফেরা নেই, কে ঠেকায়?
রোদন খেলার সামিয়ানা উড়ে নগ্নতার গায়,
থেকে যেতে কাঁদিয়া উঠে প্রাণ অসহায়।
২৪
শক্ত করে ধরো মোরে যে না পড়ে যাই
আঘাত কেমন? বুঝিনি হায় তবুও যেতে যথাই
ডাক পড়েছে ইশারা করেছে এখন যাবার বেলা
হিন্দোল বনে পাষাণ পিরাহা যৌবনে লাগে ফলা,
আশা নেই চলিয়া ওপার দেহ ফেলিয়া
সাক্ষী হাজির নজরানা বায় জীবন আবার জাগিয়া,
কে জাগায় কে সম্মুখে উন্নত শির মনি?
দুনিয়া কোথায় কোন সে নাটায় বহুরুপি গ্লানি?
সমেহার সত্য আজি তাহা রপ্ত অনন্ত বাণী।

যাও পাখি অবহেলার পাখনা উজ্জ করে
আত্মনাদের দুয়ারে অনলে পোড়ে।
জমিন ছারখার পৃথিবীর দাউ দাউয়ে
পোড়ে হিঃসা পোড়ে হৃদয় হৃদয়ে,
তাঁকিওনা কভু আর পিছে মান্যতায়
তাও আর থাকিবেনা চিহ্ন জন্ম হায়।
স্বপ্নের ধূলি রাঙা তন্দ্রার কাওয়ালি
যামিনী দূরে আলোক প্রভা র‌্যালি
গুপ্ত হতাশার বারামে চিত্য মরে দুলি।
                                                                      ২০   তারিখ ও সময়:- ০৭/০৩/২০১০,  ২২-০৫
থৈ থৈ যামিনী কূয়াশায় লুটেরা-
নিত্য পায়ে নাগরদোলা সাঙ্গ পোড়া
হুতুম পেঁচা ডাকে কূয়েলিয়া
রৌদ্র কিয়াণে মঞ্জুরি কাঁপে সাম্যতার হিয়া-
বাতায়ন তাসে কাফন পড়ানো তির্থে পয়া
ভোরের উঠোনে তাজা লাশের ছায়া।
মিশে গিয়াছে কামিনী নগ্নতার সীমায়
চুম্বন দেই ললাটে, তার গুপ্তনায়-
দিশা দিয়েছে যিনি ফানুষের রক্ততায়।
২১ 
দিনাপাতে মেহতান চোখের কামড়
চোখে ভাসে পুরীহা আকাশে জ্বলে দোসর !
মৃত্তিকার আঁকড়ে এই মেঘালয় বঙ্গ
বাঁধি লই বাতাসের চুম্বন কতনা রঙ্গ,
ছুটে চলা ঐ শ্যামল ছায়া নিবির-
পূলকিত শ্রাবণে হিন্দোল ঢাকা সুনিবির
ঝাপসা পিয়ানো রাগ লহরী কেকা বায়
মাঝি মাল্লার সুরে উজাটন মন বায়নায়,
স্বপ্ন দেখার সময় উহা, সুখের নেশায়।

আলো আঁধারে
যাও তবে বৃত্তের বাহিরে যথাকার তব নীড়ে
মহাকালের রবে আপনারে ফিতায় বাঁধি মারে,
মর মর তোলরামে বংশি দামের নিপে
বাল্যভূমির নাগালে তুমি যাও অন্য ধাপে।
জঙ্গল কাঁদিবে গহিন অরণ্যে
তপজানু স্রোত বালুর ধারায় মরণের জন্যে,
থাকি তথাই তোমা দূরে অশান্তনায়
যজ্ঞের মূলে যতিকা দামি ক্ষুদ্র কামনায়-
চাহিয়া পন্থের পানে যৌবন ঘুমায়।
১৭
ত্রিশটি পদ্দের স্নানে তোমায় জাগিয়ে রাখি-
সৃজন পূজন তন্দ্রায় আগলে ডাকি,
ঘুমিয়ে থাকার সুপ্ত চেহারা
আমি তাঁকিয়ে দেখি মরু চোখে সাহারা
ভিজে দেই ফুল দানিটা আঁকড়ে-
বৃষ্টির বুকে প্রেমের ছায়া চুপিসারে
রক্ত রাঙা বুকে তৃষ্ণার জল আকুতি
সময় ফুরায়না পথের নিনতি
ফিরে পাবার বাসনায় উম্মাদ চিত্য তিথি।
১৮
হাঁটতে হয় এতদূর আর পারি না-
পঁচিশটি বৎসর শেষ তবুও ফুরায় না
দামিনী ফুলকি রসানো তালাশে-
হারিয়ে ফেলি অন্য সবই কোন জুলুসে,
কত নদী মহনায় জলাধার সাক্ষীর নিপাতা
ফুল পরীর অন্য কাঙ্খিত মরণের চিতা।
সে কত না কেঁদে ব্যাকুল আমার পাশে
দিবারে পারেনি চৈতালী হাওয়ার আবেশে
রিক্ততার দুয়ারে পূর্ণতার সমীরণ পুষে।

আলো আঁধারে
আসিতে হয় যাওয়ার কালে অংশ বেধে
ফানুষি রঙ্গ মঞ্চ দোলনায় বাঁধে-
চুপিসারে কয়ে যায় ধীর পায়া
বাতাসের মিলন দিগন্ত তাসে সুখের কায়া।
বিরহের সভ্যতায় মহাকালে সীমানা
জলপরী নীলপরীর মরণ মরে না,
কে যায় কোন সীমানায়, কোন সে হাওয়ায়
দিগন্ত একই ঝাপসা বাওয়া নায়,
কূল হারা নদের সামে দোলনায়।
১৪
দিবস যায় রজনীর দায়, নেশার গ্লাসে,
মাতাল পাতালে সিংহাসনে বসে-
নয়ন যায় হিঃসার দু-পাতে আস্তানায়
ছিনিয়ে লয় যামিনীর রক্ত ভৎসনায়।
কোথাকায় কেবা বুঝি লয়
পাষাণ বেদি উলঙ্গ নাটে যমুনার হয় ক্ষয়,
আসেনা তো ভোর খোঁলেনাতো ডোর,
শান্তির শানে অমলিনে কান্নার অন্তর
মৃত্তিকার তলে আহাজারির ফুলতান পাথর।
১৫
অহেরি তাহারে রাখি স্বরণে
পৃথিবীর বুকে ভালবাসার শানকি শানে
মঞ্জুরির পায় চির দূর্মর দু-পায়
চলি তাহার নাগালে সাধুরাম বংশি বায়।
মনে রাখি বাজনার পিরানা-
বায়োলিনের সুর সাধে প্রেমের গুঞ্জনা,
পিঞ্জরে বাঁধা অনন- তৃষ্ণার নেশা
জাত কূলের বাহিরে মরেনা তাহার বাসা
দৌড়ায় রাগিনী তোলকামে পিয়াসা।

আলো আঁধারে
রোগ শয্যায় কাতর দু-পায়ে বেড়ি-
চলেনা তো সিঁড়ি চঞ্চলার সোয়ারি,
মাঝ পথে কামনার ঝুলি খোঁলা
তাঁকিয়ে দেখি ঐরাবতের মেলা।
রাজা নেই রাজত্ব কোথায় হারায়
চাল নেই চুলা জলে ডুবে যায়,
হঃসের সাথে ললিতা ত্রুন্দনায়
শক্তিহীন ভঙ্গুর দেহ কাফন ধামনায়
ঘুমিয়ে থাকে অনন্তকাল নীরবতায়।
১১
তারুণ্য দলে হিমশিখা বাহুবিল্লার শান
হিমাদ্রী বাওয়া তরুলতা শ্লোগান,
জমিনের ফরমান উন্নত শিরে ধাবমান
চলি অকুতোভয়ে লালে লাল অভিযান
এঁকে দেই পদভাড় পাষাণ বেদিতায়
ললাটে হিম্মতের বুলি যথা তথায়,
দেখি স্বপ্নের বুনিয়াত জিঞ্জিরার গায়-
চলে মাঝি মাল্লার নৌকা সুরতায়
উল্লাসে বাহু ধরি পাল আগুপাথায়।
১২
বহুবার শুনি ভুলিবার নহে মধুতা-
বাল্যসখা চোখের দিপ্তমনি সবিতা,
ধরি তাসের কোলে স্বল্পিতা
পৃথিবীর বুকে তাহার রুপ রহে মগ্নতা
প্রেম বাড়ে, ক্রমে ধীর দুরন্ত ফনা
আত্মায় লাগে কূয়েলিকার দোসর পিনা।
জাত জাতিকায় মনিহার রঞ্জু কণা
বাদলের দিনে দিব তাহারে সম্মানা-
শিউলি তলায় আর্বে বিছানো প্রেম দেনা।

sislam8405

{Facebook#https://www.facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

luoman থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget