Articles by "আমি এবং আমি"

কবির মন
.
আমি কঠিনিয়ায়,
ফুলকে আমি ফুলের মত জানি না,
তার থেকে গন্ধ নেবার আশা পোষণ করি না,
তাকে আমি প্রশংসায় বসাই না;
একটু জলের আশা আমার কাম্য নয়,
মাঠের পরে কতনা জলের ছড়াছড়ি
ওরা আমায় ঘর্সণে কঠিন বানিয়েছে,
পরাণটা  কঠিনের কঠিন, নরমের ঠাঁই নাই ।

২৯. আমি নেতা,
জনগণের ভোটে নির্বাচিত তুখোড় নেতা,
আমার আছে বড় বড় কথা বলার অভ্যেস,
কাজের কাজে আমি সদাই পাজি;
টাকার ওপরে আমি ঘুমাই, থুঁ থুঁ দেই-
গরিবের খাবার থালায়,
ওরা তবুও আমায় নেতা বলতেই থাকে,
তখন আমার খুশি দেখে কে !

৩০. আমি ছাত্রদলে,
নজরুলের রণ সঙ্গিতের সুরে আমি বাঁধা,
উতাল পাতালে স্বর্গ মাতালে আমি তৈরি হচ্ছি
তাঁর এক একটা বাহুর সনে;
আমার দুহাতে আছে শক্তি বুকে বল,
আছে চিন-া চেতনায় পথের দিশা,
আছে অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য গঠিত
একদল সত্যের পথে থাকা ছাত্রদল।

কবির মন
আমি শৈশবে,
আমি হাফ প্যান্ট পড়া খালি গায়ে থাকা হালকা পাতলা ছেলে,
না আছে শীতের কাপড় জড়াবার সামর্থ
না আছে ভালো খেতে পাবার আশায় মায়ের দৌড়ে ছুঁটে চলা;
যাই আসি স্কুলে, স্কুলে তো নয়, যাই বই খাতা রেখে অন্য কোথাও,
আবার ফিরি ছুটির ঠিক সময়ে,
একবারও তো ভাবিনা কতটা ক্ষতি আমার করছি ?
অতঃপর মা বসে আছেন আমার আশায় ।

২৬. আমি কিশোর,
আমার ছোট ছোট হাত পাগুলো ক্‌্রমেই বড় হচ্ছে,
মনে হচ্ছে আমি কিছু করতে পারব,
অবুঝের মত তাঁকিয়ে থাকা কাল পেরিয়ে গেছে;
লেংটা থাকাটা এখন একদমই হয় না,
চোখে লাজের ভাবটা অনেক বেড়েছে,
সম বয়সি মেয়েদের দিকে তাঁকিয়ে থাকা,
তাদের নিয়ে কিছু নতুন ভাবনা দমানো যাচ্ছে না ।

২৭. আমি পিপাসিত,
নয় তা গ্লাস জলের জন্য,
যেন বুকটা দাউ দাউ করছে চৌচিরে,
এখনি থেমে যাবে জীবনের সব চাওয়া পাওয়া;
একটা সভ্য সমাজের জন্য পিপাসিত,
যেখানে সকল মানুষেরা থাকবে তৃপ্তিতে,
সকালের আলোর মত জীবন ভরে যাবে সুখে,
মাঠে ঘাটে মানুষের জয় জয়কার ।

কবির মন

আমি দামিনী,
সকালের বুকে আলোর ঝলক বাতি দিতে আঁকি-
স্বপ্নে সাঁকো, দুপুর পেরিয়ে অতঃপর হয় বিকেল,
করি রচনা রাত্রীর অন্ধকার দূর;
একদিন কালে স্বপ্ন দেখি,
থাকবে না কোন ভয়াভয় এই সমাজ-
সংসারের বুকে ব্যর্থ মরণায়,
আমি তথাই একক রুপে বিদুৎতায়িত ।


২৩. আমি জয়,
খেলি খোলাসায়, জয়ের মাতনে যেতে রাজি-
সুদূর মৃত্যুপুরীর রাজ্যে, বাজাই গীতি,
একখন্ড বেঁচে থাকার সাহসী জয়গানে;
পুতুল নাঁচে আমি মজি নাকো,
দূর্বল আশার টানে অবশেষে কিনা শূণ্য হাতে-
ফিরতে হবে মায়ের কাছে,
নাহ্‌ ! আমি সর্বদাই জয়ে।!

২৪. আমি ঝড়,
সারা পৃথিবী জুড়ে আমার ছায়া কায়া ছুটে বেড়ায়-
দিক থেকে দিগন্তে, খেলি তান্ডবের খেলা বাতাস ও পানির সাথে,
ভাঙ্গি ঘর ভাঙ্গি পৃথিবীর কোষাক্ত রস;
এই সব সেই সবে আমার খেলাতল সকল উথলে দেয়,
আনি শান্তির ফরমান, নয় তা মিছে ভরসার ক’খন্ড
ব্যর্থ পাথরের আঘাত,
যেখানে কান্না দিয়ে শুরু, শেষটা জানা নেই।


কবিওকবিতা
আমি ধ্বংস,
চুরমার করি সব, উলুটপালট দাবানলের দহনে
উপুরে দেই সকল কালোকাল,
সকল অশান্ত রুপের রুপকার, জ্বলে দাউদাউ,
ক্লান্ত পথিক আমি বুকে নিয়ে স্বপ্নের সঙ্গম,
নিপাত করব সকল খুন জখম ধর্ষণ,
পিপাসার কোলে দিতে শান্তনা,
আমি আঁকবো সৃষ্টি সুখের উল্লাস।

২০. আমি সত্যে,
মিথ্যের সাথে আমি আপস করি নাকো,
কালে কালে এই প্রতিজ্ঞায় আমি অনড়,
মহাকালের আঙ্গিনায় একটা সত্যের পতাকায়
ভর করে আমি চলেছি,
যাচ্ছি, যাবো, জানি না কী পাবো ?
তবে তা কম হলেও, মুক্তির দলিল নিয়ে
বুক ফুলিয়ে যাবো জান্নাতের দুয়ারে। 

২১. আমি দূর্বার,
ছুটে চলার নায়ে থামি নাকো কভু, রণভূমে-
মরণের সাথে আলিঙ্গনে মৃত্যুকে করি আপন, 
জোড় কদমে চলি অসীম পথে;
বহুদিনের এই পথে আমার উন্নত তরী ভাসায়ে
আবিস্কার করি মহাপ্রলয়,
সেখানে যা থাকে তা কেবলই-
মানুষের কল্যাণের কল্যাণ কিছু। 

কবিওকবিতা
আমি জাগ্রত,
ঘুমানো বেলা আর তো নেই, সময় যে ফুরিয়ে যায়
সময়ের দড়ি টেনে ধরা আর নয়,
কখনো ছিল না, থাকবে না,
কিছু রোজগার করি, ভরানো চাই থলে,
ভালো থাকার ছলে, স্রষ্টার সন্তুষ্টি,
ঘুমাতে গেলেই সকল পাওয়া মিছে হতে পারে,
আর পাবো না সময়।

১৭. আমি দূর্মর,
কতবার তো মরিলাম, আমরণের গোড়ে
কেউ আমায় সত্যিকারে মারতে পাওে না,
বারে বারে ফিরে আসি এই বাংলায়,
এই বাংলার পথে ঘাটের প্রতিটি বালুকণায়,
জল তরঙ্গে মিশে আছি আমি হাজার বছর ধরে,
আরও থাকতে চাই, কেউ আমায় পর করো না,
দোহাই আমার এই কথা রাখো।

১৮. আমি মুক্ত,
ফিঙ্গে মাতন দোলায় আমি ঐরাবতের বুকে
ভর করে চলে যাই অজানার দেশে,
আমায় ফেরায় কে ?
আমি মানি না কো কোন বাধা
কোন বদ্ধতার ক্ষুদ্রতম আবেশ,
যেতে থাকি সামনের দিকে, তাঁকাই না তো পেছনে,
হোকনা তা আমারি আপনের আপন।

কবিওকবিতা
আমি চঞ্চল,
জীবনানন্দের কবিতার সব ক’টা লাইন
জুড়ে আমি বনলতা সেনের প্রেমী,
রক্ত চক্ষুর ফোয়ারে দেখা বন্ধন কঠিনিয়ার-
নিগাঢ়ে এক শ্যামল তরুলতা,
ছড়িয়ে দিয়েছি আমায় হাসিমাখা জীবনের
 সাথে আলিঙ্গনের সুখে
আমৃত্যু দশার মরণ কামড়ে।

১৪. আমি মানুষের রক্তে,
মানবের সাথে মনুষত্বের দুয়ারে মেলানো
এক খন্ড মাটি দিয়ে গড়া রক্তের
পরিচয়ে স্রষ্টার শ্রেষ্ট সৃষ্টি,
নইতো অমঙ্গলে আশে পথ চলার দায়ে
 বিমুখী হয়ে কারো ক্ষতি করার তুখোড় প্রণয়ে-
বেঁচে থাকার অদম্য সাহস নিয়ে
ব্যর্থ ভাবে অবশেষে পরিপাটি।

১৫. আমি হিম্মতে,
তিন কোটি বছর ধরে জেগে আছি,
কালে কালে লোহার জুতো পড়ে ঘুরে বেড়াই
সত্য সাহসের আলো নিয়ে,
দেখাতে চাই সোজা পথের পথেই
শুধু আমরা মানব থাকতে এসেছি,
কোন বিপথে যাওয়া আমাদের কাম্য নয়,
এ আমার নয় শুধু কথা।

কবিওকবিতা
আমি হিমাদ্রী,
 নজরম্নলের বাহুবিলস্না, ছমছম কঠিনিয়ায় বেঁধে
দেওয়া দামিনী তরঙ্গের নেশায় মজে থাকা
এক দন্ড উন্নত মম শির।
খেলি খেলারামের সাথে, ঢেউয়ের তালে সীমানায়
যাওয়া কঠিন বালুচরের মরুকায়,
জেগে থাকি সাত আসমান কামনায় এই
দুনিয়ার একটা ফসলের মাঠ তৈরি করতে।

১১. আমি চেতনায়,
সদাক্ষণ সারাক্ষণ থাকি ভাবনায় মজে
দেখি স্বপ্ন আমার ভবিষৎ নিয়ে
কতদূর যেতে পারবো কতটা নিয়ে,
চোখ কান খুঁলে স্বরণে রাখি,
ভঙ্গুর কাল যেন আমায় ভাঙ্গতে না পারে,
পর্দার ওপারে রাখা মরিহে যেন
সারাজীবন জ্বলতে না হয়  এই বুকে।

১২. আমি অবাধে,
মানি নাকো নিয়ম শৃঙ্খল বদ্ধতা,
শুনি নাতো ভয়ের আভা, ভয়ান্নে
বেঁধে থাকার আবেশে,
যাই যথা তথায় মনের মত করে
ঝড় তুফান উপেক্ষা করে,
সুদূর সুরঙ্গে থাক না তাতে মরণের-
মরণ কামড় জ্বালাময়ে।

কবিওকবিতা
আমি এলোমেলো,
এই জগত সংসারের পয়ারে,
ঘাসের বুকে কিংবা তরুছায়ায়,
যেখানে শ্যামল বরণ জাগরুক।
তবুও চলিনা স্বাভাবিকের গোড়ে,
মনে হয় ওখানে কিছূ নেই,
সকল পাওয়া যেন এলোমেলোতেই
আমার জন্য হাত ইশারায় ডাকে।

৮. আমি আলোকিত,
চির কথামালায় আঁকি আলোর গল্প,
ছুঁয়ে দেই ভুবনের আলোক সজ্জা,
ছুটে চলে তা দিক থেকে দিগন্তে।
যাই না কালোর কাছে ভয়ে,
অভয়ে মরার দারুন আশায়
কতটুকু আবেশে থাকবো ?
হবে কী আমার ঘর আলোকময় ?

৯. আমি যৌবনে,
পেরিয়ে এসেছি অবুঝ মানবের কাল,
ছুঁয়ে দেখা তরুরাজি আমায় জীবনের গল্প শোনায়,
বলে ইহাই সেরার সেরা কাল।
জানতাম সেরা, জানি সেরা তাই এই আবেশে
থাকতে চাই যুগের সাথে,
আমরণের বুকে দীর্ঘায়ু কামনায়
ফূল পাপড়ির কথা মালায় অনন্ত অসীমে।

কবিওকবিতা
আমি দুরন্ত,
থামি না আমি কোন কৃত্রিম বাসনায়, দন্ডায়মানে;
এ ছুটে চলার সীমানা বহুদূর,
জানি না কিন্তু আমি তার রতনের রতন মন্দিরা।
জানতে চাই্‌ অজানা গোড়ের কাহিনী,
থাক না সেথায় অবেলার সুর;
কিংবা ফূলের ওপর মর্মাহত কাল-
থেকে কালে থেমে যাওয়ার যামিনী।

৫. আমি উত্তাল,
খর্গজে মাখি মাতন দোলা, অভিনাষী;
দূর থেকে দূরে আরও দূরে,
সীমানার ওপারে সাত আসমান ভূমে।
খেলে যাই তেলেশমাত রণভূমে,
উল্কিত পাথারে আঁকি ঘর সংসার;
দোজাহানের টানে মরি মরি-
কিংবা শূণ্য থলে হাতে নিয়ে কাঁদি। 

৬. আমি তারুণ্যে,
ছূঁড়ে ফেলি বার্ধ্যকের সকল ছায়া,
আনি তোলে ফসলের ফরমান,
রঙ্গিন ক্যানবাসে এক দন্ড সুখ।
ছুটে চলি এক চিলতে দুনিয়া জুড়ে,
এক থেকে আরেক সত্যের সন্ধানে,
পথ ভোলা উপুরে সোজা পথে,
যেখানে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।

কবিওকবিতা
আমি চির,
আলো বাতাসের সাথে সম্মেলিত জগৎময়, রুপান্তর;
মানবের বুক থেকে বুকে সুখ দুঃখের সাফারি,
যেখানের পেছনে কান্নাও থাকে আবার হাসিও থাকে।
ঐ আকাশ এই মাটির চাদরে আমি বুনি ভালোবাসার স্বপ্ন,
উহাতে কোন বৈরিতা নেই;
বরং আছে অজস্র আশা ভালবাসার ঘরে-
লাল নীল সবুজ হলুদ ও আরও অনেক পতাকা।

২. আমি আগুয়ানে,
কম্পিত ভূমির বুকে একগুচ্ছ সাহস, হিম্মত;
রক্তের সাথে রক্তাক্ত দেনা পাওনা,
মুছে দেই চোখের নিগাঢ়ে ভাসা দুঃখটা।
কালে কালে যা দিয়ে যায় কালো কাল,
সেখানে আঁকি মনের মন মনান্তর;
আছে শির হিমাদ্রী ধরে পথ-
চলার অদম্য চিন্তা চেতনার ফলশ্রতি।

৩. আমি মুক্তিতে,
গেয়ে যাই মুক্তির গান গুঞ্জনে, কূজন;
বাতাসের ভিতর হাত বাড়িয়ে দেখি মুক্ততা,
অতঃপর আমি পাই স্বর্গীয় শ্যামা।
যাঁরা বন্দি রোষানলে নির্যাতিত রুদ্ধ,
সেখানে ছুঁড়ে দেই আমার পতাকা;
ফলাফল গিয়ে দাঁড়ায় খোঁলা জানালার-
ক্যানভাসে দেখা জনতার কাতারে হাজারো সুখের চোখ।

sislam8405

{Facebook#https://www.facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

luoman থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget