Articles by "এলোমেলো ভাবনা"

কবিওকবিতা
দেওয়ার পরে চাওয়ার মাঝে স্বার্থকতা নেই
বরং তাহা থাকে ত্যাগের মাঝে,
সৃষ্টি পথ বেয়ে ঝুলে থাকে
ললাটে থাকলে কেউ না ফেরাতে পারে।

আমার ভালবাসা দৃশ্যায়মান কিছু চায়নি
তবুও সুখের বাসর জলাঞ্জলি দিয়ে-
বেদনার নৌকায় পাল তুলেছি।
আমি সুখগুলো দু-হাতে উড়িয়ে-
দুঃখের সাথে মিতালী করি,
আমি ভালবাসা পাওয়ার জন্য-
আগুনের পথ পেরিয়ে যাই,
কিন্তু পোড়াতে চাইনা।

ভোরে উঠে বকুল ফুলের মালা গাঁথি
ফুল দানিতে তাহা রেখে দেই-
অপেক্ষায় বেলা পেরিয়ে যায়,
ফুলের পাঁপড়িগুলো শুকিয়ে যায়
কন্যার আগমন তবুও হয় না।
আমার কোন অভিমান নেই,
নয়তো তাহার কাছে জবাব চাইতাম
মুছে নিতাম বিরহ প্রেমের ছোঁয়া,
প্রেম থাকুক প্রেমের জায়গায়
দুঃখ পাবো তবুও না প্রকাশ করিবো
আমার পাওনা আমার প্রাপ্প
কেউনা তাহার স্পর্শে আসুক।
আমি কাগজের নৌকার মত-
নদীর জলে ভেসে যাবো,
তবুও না কাউকে সাথে নিবো
ভালবাসা আমায় কি দিল ?
আমি তাহার খবর রাখিনা,
বরং ভালবাসা পাওয়ার জন্য-
কি করিলাম, কি করিবো তাই প্রধান।
ভালবাসার জন্য প্রিয়ার চোখের-
জল পড়িলো কিনা? তাহা দেখিবো না,
আমার হৃদয়ে তাহার জন্য-
কি পরিমান ভালবাসা আছে
তাহার বিশালতা উচ্চ দ্বারে নিবো।
আমি আমার তালে প্রেমের-
সাগরে হাবুডুবুতে ব্যাস্ত,
তোমাকে নিয়ে ভাবতে থাকি
মনে হয় তুমি কাছে আছো,
অথচ সবই কাল্পনিক
তাতে কিবা হবে ক্ষতি ?
লাভের হিসেবে কভু প্রেম হয়না
তাহা অজানা পথের মাঝে-
খোঁজে নিতে হয়।
                                তারিখ ও সময়:- ৩০-০৩-২০০৬,   ১৮/৪০


কবিওকবিতা
    ছিন্ন পাতা তরুর ঢালে লাগালে, 
তাহা কেউ কাউকে আপন করে নেয়না,
যদিও বিচ্ছেদ পূর্বে তাহারা ছিল-
স্পর্শক একই অঙ্গে মাখা।
কোন এক ঝড়ে তাহারা উভয়-
উভয়কে হারিয়ে পথের ময়লা।
আমি কোন ঝড়ের আভাস পাইনি,
দেখিনি দখিনের জানালা মেলিয়া-
কোথাও কোন কুয়াশার চাদর,
তবুও আমার ঘরের দরজা ভেঙে গেছে
হারিয়ে গেছে দেহের অঙ্গ।
আমার নয়ন খানি অনলে গড়া
যে পানে চাহিয়া থাকে,
তাহার উপর বজ্রপাত লাগে
ধ্বংস হয়ে যায় সেই মহনা।
ভ্রমর যায় ফুলের কাছে
কাঙ্খিত পাওয়ার টানে,
ফিরে আসে স্বার্থক ভাবে।
আমার রজনী পোহালো
তবুও পথের দিশা অজানা
আমার ছায়া যেখানে পড়ে
সেই আঙ্গিনায় জলোস্রোতের মত-
নোঙ্গরের টানে বিলিন হয়ে যায়।
কেউ আমায় বুঝেনা
তাইতো জীবনের ভেলা নীল
আগুনে পোড়ে ছাড়খাড়।
                              তারিখ ও সময়:- ৩০-০৩-২০০৬,  ১৬/৩৫

কবিওকবিতা
বৃষ্টির সাথে আমি খেলায় মেতেছি,
মেঘলা আকাশে আমি নজর রেখেছি,
শীতের কূয়াশায় আমার দেহ-
শীতল পরশে বারেবার ভিজিয়েছি,
চৈতালী প্রবাহে আমি ভেসে গিয়েছি,
বসন্তের বাসরিতে ফুলমেলা অরণ্যে-
আমি সুভাস ছুঁয়েছি।
কিন্তু সবই যেন কেমন অর্ধাঙ্গীনি,
পূর্ণতায় পাওয়া যায়না ।
হৃদয় কি চায় কোথায় যায় ?
কাহার চাওয়া পাওয়া বুঝে ?
অচিন গাঁয়ে যে নারীর দেখা-
আমি চোখের দেখায় দেখেছিলাম,
যাহারে আমি ফুল সজ্জার মাঝে
ভালবাসার স্বপ্ন দেখিয়েছিলাম
তাহার মাঝে জীবনের সবই ছিল
আমায় দিতে সে কাপূর্ণ করেনি,
তাহার কালো নয়ন তারা-
আমায় আধাঁরে আলো দেখায়।
আমি জোছনা রাতে মাঠের পড়ে-
যেখানে সীমান্ত ঠেকেছে-
আমি সেই অবস্থানে ছুটে যাই,
দেখিবারে তাহার মায়া ভরা মুখ।
ঐ লাজুক লতা দোলনচাঁপা নয়নের-
চাহনি আমায় উড়িয়ে নিয়ে যায়,
বিহঙ্গো পাখির ডানার মত-
মেঘলা আকাশের মাঝে তুলনায়।
তাহার রুপ চন্দ্রের মত উড়ে,
নেই তাহাতে এক বিন্দু কলংকের দাগ,
থুঁতনির নিচে আমি ছুঁয়ে গেলে
সে হাসি বাক্স খোঁলে দিত,
তাহার হাসিতে বেলীফুলের পাপড়ি গুলো-
নিম্নমুখী নত হয়ে যেত।
তাহারে অনেকেই দেখেছে
কিন্তু কেউ বুঝিতে পারেনি
ছুঁতে পারেনি প্রেমের বিশাল ডানা।
তাহার ভালবাসা, অপেক্ষায় থাকা-
বিপরীত অঙ্গের দেখা আমাতে পেয়েছে,
তাইতো সে ছুটে আসিতো বারেবার
মানেনি কোন বাধার দেয়াল
বলিতে কথা কিছুক্ষণ নজরে রেখে নজর।
আমি জানতাম তাহার ফুলের সুভাস-
এক জীবনে শেষ হবার নয়,
আমি তাহারে ধরতে পারিনি
রাখিতে পারিনি হৃদয় সত্তা।
আমি আমার টানে উল্টো-
পথে ফিরে এসেছি,
তাহার প্রেমের কাঁচ আমি চুরমার করেছি,
যেখানে উভয় উভয়কে দেখিতাম।

শেষ দেখাটা রিক্সায় হয়েছিল,
সে আমার আগুয়ানকে জাগিয়েছে,
তার মহিমা তারে পোড়ে মারিবে
আমি কিছু করিতে পারিবোনা,
আমাকে সে ভুল ভাবেনি
কিন্তু জানতোনা কি হবে অবশেষে।
                                                 তারিখ ও সময়:- ২৯-০৩-২০০৬,  ১৪/১৫

কবিওকবিতা
কখনো ভেবে দেখিনি আমি,
 কোথায় সেই সীমান্ত পথ
যেখায় বসিয়া আছে আমার নীল নয়না, 
আর কাঁদছে মারিয়ে বিরহ রথ।

তুমি কোথায়? কোন ভাঙা বসতে
আসন বেঁধে রহিছো বসে ?
আমায় ডাকো হাত ইশারায়
বাঁধো তোমার মন কুঞ্জ স্পর্শে।

আমি দেখিনা চাহিয়া এ ভুবন,
কিবা আছে তাহায় কিশের বন্ধন ?
আমি মগ্ন চেতনার আভাসে
অপেক্ষায় প্রহর গুনিতে ব্যাস্ত ।

তাহার ফাগুনের আশায় আশায়
আমার জীবনে সর্বদাই বর্ষার
অকূলান যন্ত্রনা আবদ্ধ,
তুমি এসো দেখো চাহিয়া দৃষ্টিতে
কি সাগরের স্রোত বহমানে গতিমান।

তোমার আউলা চুলের দখিনা বাতাস
আমার অঙ্গে মেখে দাও,
আমি মুছিতে চাই দুঃখগুলো।

আমি তোমায় প্রতিদিন সকালে
একটি মৌনতা মাখা ফুল দিব,
নয়তো ফুলের বাগান দিব,
যেখানে তুমি সৌরভে ঘুমাবে
আমি হবো তোমার প্রেমের বনমালী।

                                 তারিখ ও সময়:- ২৯-০৩-২০০৬,  ১৪/১৫

 

   জোছনা ভরা রাতে আমি তোমার গান শুনিতে চাই
গানের সুরে দহন লাগে তাইতো ফিরে যাই-
শূন্য মনে একলা ঘরে তোমায় শুধু ভাবি
এই হৃদয়ে আঁকা আছে যতনে তোমার ছবি,
তোমায় ভেবে গাঁথি মালা একটি ফুলের কলি
ওগো কন্যা আমায় রেখে কই যাও চলি
কবিওকবিতা

আসবে তুমি আমার ঘরে লাল শাড়ি গায়ে মেহেদি পড়ে
তোমার লাগী অনেক আশা যাবে কি তবে ঝরে ?
এই কাননে ফুলের মেলা যায় যে বয়ে অথৈই বেলা
তবুও তোমার আশায় আছি দিওনা অবহেলা
প্রদীপখানি নিভে গেলে কেমনে তোমার দেখা পাবো-
সাগর জলে ভেসে বেড়ানোর সাধ কভুনা মিটিবো
জানালার ধারে চোখের কোনায় ভাসে তোমার মুখখানি
লাজুক লতা কমলি হাতের পরশ ভুলেতো আমি যাইনি
শ্যামলে মাখা অঙ্গ তোমার বন্দরে দিলাম ভাসিয়া ভেলা
আমার ঘাটে অপেক্ষা করো চলিবে প্রেমের গতি চলা,
আমার দলে আমি রহিলাম তোমার আসার পালা
আলো ফুরিয়ে আঁধার এলো গভীর রজনী বেলা।
গগণের বুকে উঠেছিল সারি সারি তাঁরা
জানালার মত আরাল হল দিলনা আর যে সাড়া
শুনিনি আমি আর কোন দিন রজনী প্রহর মাঝে
রং বাহারীর সুর বয়ে যায় ঢাক ঢোল না বাজে,
তুমি নেই কাছে জীবনের মাঝে কিবা জীবনে আছে
দুঃখগুলো সাথী আমার আছে পিছে পিছে
নীরব ক্ষণে নির্জন মনে বিরহ বেদনার আভাস
কারো আছে বকুলেরর সুভাস আমার মেঘলা আকাশ।
                                                           তারিখ ও সময়:- ২৫-০৩-২০০৬,  ১১/১৫

    কোন দিন যদি কারো নীল আকাশটা-
দেখার ভাগ্য না জোটে,
তাহলে সৃর্য্য কিভাবে উদয় হয় ?
কিভাবে বিকেল গড়িয়ে অস্ত যায় ?
চাঁদের চেয়ে সৃর্য্য কেন বেশী আলোকিত ?
তাঁরাগুলো জোছনা রাতে মিটি মিটি করে ?
কিন্তু দিনের বেলায় নেই,
 তা জানার ভাবনা এই সব জাগবেনা ।

আর যদি চোখের দেখা মুক্ত মনে-
সবই ভাবনায় থাকতো-
তাহলে বিভিন্ন প্রশ্ন জাগতো । 
কবিওকবিতা
আমি নারীর প্রেমে দিওয়ানা,
তাইতো আমার তার মধ্যে সবই
জানা শুনার সন্নিহিকটে,
দুঃখ কাহারে বলে ?
কষ্টের দৌড় কতটুকু ?
নজরে নজর রাখিবার পর-
কি পরিস্থিতির উদয় হয়,
তাহা উভয়ের জানা শোনার স্পর্শে
সর্বদাই হৃদয়ের মাঝে আনাগোনা হয়।

ভালবাসা কখনো কাউকে
যে কোন অজানা পথে নিয়ে যেতে পারে,
যেমন; আমি বিরহের দলে
কন্যা আমায় আপন ভাবতে পারেনি
যে আকর্ষণে আমি ঐ পথে গিয়েছি
তাহার সবই কন্যার জানা,
তবুও তার প্রতি আমার প্রেমের
পালতোলা নৌকা ঘাটে ভিড়ে,
সে লগি বৈঠার আওয়াজ পায়,
কিন্তু না শোনার ভাব করে।

গভীর রজনীতে যে পায়ের শব্দ-
কন্যা তুমি ক্ষণে ক্ষণে পাও
তা কিন্তু শুধুই আমি,
আমার তোমার কাছে আসতেই হয়।
ভালবসি বলেই তোমার গান
শোনার বারেবার ইচ্ছে জাগে,
নাকের নোলক নাড়িয়ে অভিমান-
করে চলে যাবার দৃশ্য,
আমার বুকে ব্যাথা বাড়ায় ।
সারি সারি তোমার চুলের ভাঁজে
আমার ভালবাসা বান্ধা পড়েছে,
তাই আমি ফিরে আসি
বেদনা যদিও আমায় আঘাত করে ।
ভালবাসি বলেই
তোমার বলা কর্কট কথা
আমার দুঃখ ধোয়ে নেয়।
                                তারিখ ও সময়:-  ২৭-০২-২০০৬,  ২৩/৫০

        
কবিওকবিতা
দখিনের বাতাসে মিশে আছে নারগিছ-
ফুলের চঞ্চলা রুমঝুম আকর্ষণ,
সন্ধামালতী দিয়ে যায় অসীম-
দূরত্বকে কাছে নেওয়ার স্বপ্ন আশার শয়ণ,
নীরবতার মাঝে কোকিলের কূহু কূহু
সুরেলা গানে মনে উল্লাস আসে,
ভাবনায় জাগে কে যেন হাত ইশারায় ডাকে
তাঁকিয়ে তবুও দেখেনা কে আছে পাশে,
মন খারাপ হওয়াার কোন বিবর্ণ রং
চারিপাশে দেখা যায়না,
তবুও তাহার নীরবতা রয়ে গেল,
দোলা লাগিলো না তাহার মনে,
কোন প্রশান্তির পরশ বেয়ে
তাহার নয়ন দেখেনি চাহিয়া
বাহির পানে কি উজ্জলিত,
কে তাহারে বরণ করিতে প্রস্তুত,
তবুও নীরব দেহ, এক বিশেষ-
ভঙ্গিমায় অন্য পানে দৃষ্টি রাখিলো
কোন শব্দ তাহারে অন্য পানে
ফিরে আনিতে পারিলো না,
পা দু-খানি হাঁটতেছে
মনে হয় কেউ জোর করে ধাক্কাচ্ছে
তবুও পাল্টা বাধার চেষ্টা করিলোনা
মশামাছি গুলো চামরার উপর প্রলেপের-
মত জড়িয়ে আছে
তবুও হাত নড়েনি তাহার
কেউতো বেঁধে রাখেনি হস্তদ্বয় ।

এই বর্ণনায় আবদ্ধ পদার্থটি কি ?
কোন মানুষ হতে পারে ?
আমার মতে মানুষ নয়
হয়তো ছিল কোন এক বিশেষ মহিমায়
তাহার বাহ্যিক ভিতরের গঠন ঠিকই আছে
কিন্তু ভাব ভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে
সে কখন খায় ঘুমায় ?
আমার চোখের দেখায় পড়েনি
তাহলে কিভাবে দেহে কার্য চলে ?
নাক মুখ চোখ হাত পা মাথা পেট
সবই ঠিক আছে
তবুও সে কেন তাহার অস্তিত্ব
প্রকাশনে রুপ দেয়না ?
তাইতো তাহারে আমি মানুষ বলিতে অনিহা
জীবন এ সে আছে কিনা, নয়তো অনড় পদার্থ।
                                                তারিখ ও সময়:- ০১-০২-২০০৬, ২৩-৪০

কবিওকবিতা
সবুজ চাদরের মাঝে লাল বৃত্তের আশায়  
গীতিকার একখানি গান রচনা করিলো
সুরকার তাহা সুরে রাঙাতে ব্যাস্ত হয়ে পড়িলো
কিছুকেই সুর আর সুরের রুপে হচ্ছে না
মিউজিকের কমতি ছিল না
তবুও গানটি মনের মত হলনা ।
শিল্পির কন্ঠে গানের বিকৃতি রুপ-
মানুষের মন নাড়াতে পারিলোনা।
গানের কথাগুলোর কোন অর্থ-
কেউকি খোঁজে পেয়েছে ?
আমার মনে অনেক সন্দেহ হল !
সুরকার সুর সম্পর্কে কোন ধারণা-
রাখিয়াছে কিনা জানি না ?
হয়তো তিনি সরকারী নিয়োগ প্রাপ্ত সুরকার !
ছিল না কোন যোগ্যতার মাপকাঠি।
আর যিনি লিখিয়াছে গান-
তিনি মনে হয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধি,
বর্ণ অক্ষরগুলো সঠিক ভাবে
খাতার পাতায় বসাননি,
তাই বিকৃতি শব্দ উচ্চারণ হয়েছিল
যার কারণে গান আর গান থাকিলো না
ধিক্কার বাণীতে পরিণত হল।

স্বাধীনতা কথার অর্থ জানেন কি ?
হয়তো আমি ক্ষুদ্র পরিসরে জানি, কিন্তু
আপনাদের কারো ভালো ভাবে জানার কথা।
অনেক মুক্তিসেনা আজও বেঁচে আছে
তারা হানাদার দলের মাথা নত দেখেছে,
দূর থেকে রেড়িওতে শুনেছে।
মুক্তিকামি মানুষগুলোর অনেকেরই-
পূর্বে বন্দুক চালানোর যোগ্যতা ছিলনা
তাদের যোগ্যতার চেয়ে মনের সাহস-
লক্ষ গুণে বেশী ছিল,
চোখে ছিল আলো ঝলমল
যার দ্বারা অন্ধকার মারিয়ে নিত।

কিন্তু সুরকারের না আছে গিটারের ধারণা
না আছে গানের রং ঢং জানা,
তবুও তিনি উচ্চ পদের সুরকার,
কিবা আশা করা যায় তার থেকে ?
বরং সঙ্গিত রক্ষা করা হবে কঠিন।

কেউ মুক্তির জন্য যুদ্ধ করে হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা,
কেউ মুক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ায়ে হয়েছে মুক্তিসেনা।
সবার গায়ের রক্ত লাল,
কেমনে চেনা যায় ?
তবুও বাংলার বুক স্বাধীনতা পেয়েছিল।
আমি পড়েছি, বইয়ের পাতায় পাতায় লেখা আছে,
পুরানো মানুষের কথা থেকে জেনেছি,
যার প্রতিফলে দিপ্তমান হয়েছে-
মুক্তিসেনাদের ঘরে আজ অনাহারির-
সারি সারি দুঃখ তলা;
টিনের থালা হাতে দূয়ারে দূয়ারে-
এ কেমন হাটা চলা।

আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগে নাকি ?
জাগিতে নাহি পারে, কারণ-
আপনি যদি অন্ধ গীতিকার হয়ে-
এলোমেলো বর্ণে সাজানো গান লেখেন
তাহলে তাহা স্বাভাবিক সম্ভব-
হয়েছে বাংলায় স্বাধীনতা আনা।
আমার চোখে এখনো সবুজের-
সুবিশাল চাদর নজরে পড়েনি,
লাল বৃত্ত কিভাবে আসিবে ?

আপনি কি দেখেছেন মুক্ত মনে-
সবুজের ভিতরে লাল বৃত্তসহ পতাকা-
উল্লাসিত ভাবে উড়তে ?
হয়তো দেখেছেন , যদি আপনার না দেখেও 
দেখার যোগ্যতা থাকে।
নয় মাস কেন ? এই বাংলার মাটিতে-
নয় দিনে স্বাধীনতা আনা যেত,
যদি না থাকিতো তারা, বর্তমানে যাদের 
অনেকেই মুক্তিযুদ্ধা দলে নাম লেখানো।
উঁচু উঁচু দালান কোটা
উপর থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে
যে সময় লাগে, গরিবদের তিন বেলা-
খাবার খেতেও তার কম সময় লাগে।
বয়স বেটার পঁয়ত্রিশ ছুঁই ছুঁই
অথচ তিনি নাকি ছিলেন
মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধান নেতা।
বিশ্বাস করিতেই হয়,
বিধাতার অনিয়মে সে যদি কখনও
মায়ের গর্ভে থেকেই বিশ বছরের-
দেহ নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে,
তাহলে তাহা স্বাভাবিক সম্ভব।
পরীক্ষায় পাসের সনদে লেখা আছে
তিনি নাকি ৩০শে ফেব্র্রুয়ারীতে জন্ম নেয়।

তারিখ ও সময়:- ০৩-০২-২০০৬,  ১০/২৮         

তুমি কত সুন্দর
আমি রাখিনি নজর এই শস্য শ্যামল-
ফসল ভরা মাঠের পানে,
যেখানে লূকিয়ে আছে হাজারে হাজার-
কবির কবিতায় লেখা চয়ণ,
যার বাতাসে দেহ শীতল হয়
যে মাটির স্পর্শে অঙ্গ মধুময়,
ভোর বিহানে পাখপাখালি কলকাকলি।
আমি আমার সুরে মাটির গান গাইনি
আমি যাহার গান গেয়েছি
যাহার অঙ্গ মাখা ভেলায়
আমি পাল তুলেছি,
সে এক মানসী,
তাহার দু-চোখের চাহনি আমায়-
নীল গগণের দেশে টেনে নেয়
তবুও আমি তাহার পানে তাঁকিয়ে থাকি,
দেখি দু-নয়ন মেলিয়া
যাহা আজ অবধি দেখা হয়নি,
মনের মাঝে কল্পনায় জাগেনি।
বিধাতা কি রুপের রুপকারে-
তাহারে দিয়াছেন গঠন
আমি স্রষ্টাকে করি স্বরণ,
তাহার সৃষ্টির মহিমার উল্লাসে
সুনিপূণ কারুকাজের দানে
তাহার টানা দু-চোখের চাহনি
যেন চন্দ্রা মালতী বকুল ফুলের-
মৌনতায় ভরা।
আমি কাজের সন্দানে দূরে যাই
তবুও ক্ষণিক পরে আসি ফিরে-
তাহার টানে, তাহার এলোকেশের গন্ধে,
আমার মন বেলী ফুলকে ভুলে যায়
হারিয়ে ফেলি চেনা জানা পথ
সবই হয়ে যায় এলোমেলো।
এসো কন্যা কিছূ কথা বলো
আমার পানে এক নজর চাহিয়া
তোমার সত্ম হসত্ম মোর হসেত্ম রাখো।
আমি জীবনের ক্লানত্ম মুছে নিব
সবুজ শ্যামলের মত রাঙিবো আমায়-
তোমার স্নিগ্ধতার অরণ্যে।
যদি আমায় কাছে টানো
আমি চাহিনা কিছু এ ভূবনে
তোমাতে মোর অঙ্গ রাখিবার লাগী-
ক্ষণিকের ভুবনে জায়গা দিও।
 তারিখ ও সময়:- ২৬-০৯-২০০৫

            
কবি ও কবিতা
  দেয়াল                  

অবুঝ মন কথাটা কিছু ক্ষেত্রে বিলাসীতা
আবার কখনো বাস্তবিক,
ঝুলন্ত সূতার মাঝে পাথরের মত
যাহা নিম্ন দিকে ধাবিত
আবার কখনো ডানে বামে আগে পিছে,
কারণ কারো আঘাতের তেজে
সে স্থান পরিবর্তনে বাধ্য থাকিবে
যদি না সে অপরের চেয়ে ক্ষুদ্র।
তাহার ভালবাসার কাছে আমার-
মন সদাই ছিল অবুঝ
কিন্তু কোন বিলাসীতা ছিল না,
তাহার হৃদয় বড় বিশাল ছিল
যাহার ব্যবধানে আমার ভিতরটা চুরমার
ক্ষত বিক্ষত জীবন্ত লাশ।
আমি কখনো আমার হৃদকে-
সাহসী হতে বলিনি,
যদি প্রিয়ার ফুলের মত মনটারে-
বেদনার বেড়াজালে বাঁধে
তাহলে আমি কেমনে সইবো
কেমনে দেখিবো দু-নয়ন মেলিয়া,
আমি তাহার কাছে উত্তর চাইনি
মনের সাথে যুদ্ধ করেছি
তাহার মাঝে আমার যে দুরত্ব
তাহা কাছের মাঝে লৌহের মত শক্ত
ভাঙার উপায় আমি জানি না।
যে ভালবাসার বন্ধনে তাহারে আমি-
প্রতিচ্ছবি রুপে আয়নার মাঝে দেখিতাম
সমান্তরালে কোন বাঁকা ছিল না,
জোছনা রাতে দু-জন বসে তারা গুনিতাম
হাসনাহেনা ফুল তাদের কাজের ব্যাস্ততার-
মাঝে আমাদের মৌনতা বিলিয়ে দিত।
এখন সম্মুখে একটি কালো চাদর
অপর প্রানে- ধু ধু অন্ধকার
কূয়াশার আবরণ দৃষ্টির সীমানায়,
কখনো কপাট বলা যায়
অথবা বিচ্ছেদের দেয়াল।

                       তারিখ ও সময়:- ২৬-০৯-২০০৫,  ২০/১৫

sislam8405

{Facebook#https://www.facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

luoman থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget