Latest Post


সকাল ন’টা বাজে, আমার বউ শুয়ে আছে,
সে সম্পূর্ণ সুস্থ্য মানুষ।
আমার মা অসুস্থ্য ! গত রাতেও মায়ের জ্বর অনেক ছিল,
এখন কত জানি না ।
বউকে বললাম, এখনো উঠবে না ? গিয়ে দেখো মায়ের কী অবস্থা ?
জ্বর বেশী হলে কপালে জল ঢালতে হবে ।
সকালের নাস্তার কি ব্যবস্থা করবে ?
বউ মাথার ওপর থেকে কাথাটা সরিয়ে বলল-
প্যাক প্যাক করা বন্ধ করবে ? ঘুমাতে ভালো লাগছে, এখনি উঠতে পারবো না ।
এতো দরদ হলে গিয়ে নাস্তা বানাও, আমি পারবো না ।

ও ঘর থেকে মা সব শুনে বললেন, 
কীরে অপু আবার কি হল তোদের ? একটু এদিকে আয় ।
আমি দৌড়ে মায়ের কাছে যাই।
মাত্র ক’টা ঘন্টার ব্যবধানে, রাতের পর থেকে মায়ের চেহারা কী হয়েছে !
কপালে হাত দিতেই মা বললেন-
আলনা থেকে বাজান কাপড়টা দে তো,
এইটা নষ্ট হয়ে গেছে। একটু কালুর মাকে খবর দে, ও এসে ধুয়ে দিয়ে যাবে।

ছোট বেলায় মায়েরা সন্তানদের কাপড়ে কিংবা গায়ে লেগে থাকা গু মুত ধূয়ে দেন,
কোন মায়ের মুখ থেকে তো শোনা যায় না যে-
 কী এক সন্তান পেট থেকে হয়েছে তার গু মুতে বাড়িটা গন্ধ হয়ে গেছে !
আমি ভাবলাম, কালুর মাকে ডাকবো না, মায়ের কাপড় আমি নিজেই ধুবো,
মা যদি আমার সব যত্ন করতে পারেন, আমি কেন তাঁকে পারবো না !
বউ হয় তো ও ঘর থেকে কাপড়ের কথা শুনেছে, তবুও উঠে আসে নি ।
আমি কি বলব বউকে ! গালি দিব ! তাতে কি তার সুমতি হবে, যদি মন থেকে না হল !

মায়ের অসুস্থ্যতা সাত দিন ছিল।
রাতে রাতে উঠে গিয়ে আমি কপালে জল পট্টি দিয়েছি, সকালে উঠে রান্না করেছি।
বউয়ের মনে কি এর জন্যে কোন ভাবনা হয়েছে ?

                                                                                         ১৩-০১-২০১২

কবিওকবিতা

সেই ছোট্র বেলার কথা মনে আছে,
মনে আছে বাবা আমাদের দুই ভাইকে হাটে বসা
নাপিতের সামনে বসিয়ে তাঁকে চার টাকা দিয়ে বলতেন-
"এই লও মাথার চুলগুলো একেবারে খাটো করে দিও ওদের" ।
বাবা চলে গেলে নাপিককে বলতাম, বেশী খাটো কিন্তু করবেন না ।
পরের দিন আয়নায় দেখি, চুল কাটা একদম খারাপ হয়েছে ।
ভাবতাম, স্কুলে গেলেও তো সহপাঠিরা নানা কথা বলবে,
দুঃখের কথা কাকে বলব ?
চুল বড় না হওয়া পর্যন্ত আর স্কুলে যাইনি;
যদিও লোকটার কাছে অনেকবার চুল কাটিয়েছি, এতো খারাপ করেন নি ।
সেই দুই টাকার চুল কাটানোর কালটা পেরিয়ে গেছে,
এখন বিশ টাকার নিচে হয়না ।
বাবা ছোটকাল থেকেই আমাদের দুই ভাইকে এক চোখে দেখতেন,
কারো প্রতি কম বেশী করতেন না ।
খাবার সময় মাছের মাথা দুটো না হলে কাউকেই
দিতে দিতেন না, এমন কী রান্নার করতে দিতেন না।
ডিম রান্না একটা হলে দুই ভাগ করে দিতেন, আর উনারা ভর্তা দিয়ে খেতেন ।
ঈদের দিন দুই জনকে দুই টাকা করে দিতেন,
তখন অবশ্য উহার মূল্য বর্তমানের মত ছিল না ।
সার্ট কিনে দিলে একই রঙের দুটো কিনে দিতেন, কারণ একটাই-
কেউ যেন বলতে না পারে ওরটা ভালো আমারটা ভালো না ।
বাবা স্বপ্ন দেখতেন দুই ছেলেকেই উচ্চ শিক্ষিত করবেন,
দুই ছেলের জন্য যৌতুক বিহীন দুটো লাল টুকটুকে বউ আনবেন ।
বাবার ধ্যান ধারনাটা সত্যিকারে ভালো ছিল, রাগী স্বভাবের
লোকটার মনে যে এতো ভালো কিছূ থাকতে পারে ভাবা যায় না ।
এখন আমরা বড় হয়েছি, চাকরি করি, বিয়ে করেছি ।
বাবাও বিদেশ থেকে দেশে এসেছেন, এখন মজার করার জন্য বাবাকে বলি,
বাবা, আমায় একটা রঙ্গিন সার্ট কিনে দিবে ?
বাবা বলেন, বাজান ? এখন তো কামাই করতে পারি না,
আমাকেই আরো তোমায় কিনে দিতে হবে ।
বুঝতে পারলাম বাবা কথাটায় কষ্ট পেয়েছেন,
তারপর আর কখনো মজার ছলেও অমন কথা বলি নি।
২৪-০২-২০১২

কবিওকবিতা

ঘুমিয়ে পড়ি, মরণের চেয়ে কম কিসে ?
চোখদ্বয় বন্ধ হয়ে যায়,
দুনিয়ার আলো বাতাস তখন যেন কিছু বুঝি না ।
স্বপ্ন দেখতে থাকি,
তা কখনো কালো কিংবা সাদা হয়
কখনো কখনো তা মনে রাখার মত হয় না ।
ঘুম থেকে জেগে মনে হয় কিছূ দেখলাম
অথচ কি দেখলাম তা মনে নেই
তা ভাবতে ভাবতে আবার ঘূমিয়ে পড়ি।
ঘুম আর ঘুম
আবার নতুন করে নতুন ভাবে জাগি,
নতুন কাজে মন বসাই
ঝরে যায় ক্লান্তির ধকল ?
ফিরে আসে শরীরে এক মুঠো চেতনা ।

ঘুমিয়ে পড়ি, অনন্ত- যাত্রায় মরণ নয় কি ?
চোখদ্বয় বন্ধ হয়ে যায়,
আখিরাতের আলো বাতাস তখন কোথায় চলে যায় জানি না।
স্রষ্টাকে জপকে থাকি,
তা তখনের জন্য ব্যর্থ কিংবা অস্বার্থক
 ঐ জপনামা কোন কাজেই আসবে না ।
ঘুম থেকে মনে হয় স্রষ্টাকে দেখলাম
 অথচ হাত দিয়ে ধরলে পাই না
ডানে বামে তাঁকিয়ে আবার ঘূমিয়ে পড়ি ।
ঘুম  আর ঘুম
আবার নতুন করে নতুন জবাবদিহি,
নতুন ভাবে সাক্ষীর পালা
ভয় ভয়ে  অনন্তকাল ?
অতঃপর সুখ নয়তো কষ্ট ।

            ০৯-০১-২০১২


কবিওকবিতা
আমার বুকের ভিতর একটা স্বাধীনতার বস্তা আছে
রংটা তার হরেক রকমের,
যদি বলি নীল হয়ে যান তিনি তাই হন
যদি বলি কালো হন তবে কিছূটা গড়িমসি করলেও হন ।
গড়িমসি করার ক’টা কারণ আছে,
স্বাধীনতা মানে তো নতুন কোন কালো অধ্যায় নয়
যেখানে কান্নার আহাজারি পড়ে যাবে !
কোন প্রেমের স্বপ্নেরা হতাশায় ভুগবে !
নতুন কোন কালোর উথান হবে !

আমার বুকের ভিতটা কেমন যেন গর্বে ভরে উঠে,
আমি সার্টের বোতাম লাগিয়ে তা ঢেকে রাখতে চাই
তিনি তবুও কখন যেন খূঁলে ফেলেন,
কিন্তু কে খূঁলে ফেলেন ?
আমি কি তাঁকে যতনে রাখিনি ?
নাই বা পারলাম তাঁকে দুধ কলা খাওয়াতে !
শীতের সময় দামী কম্বলের নিচে শোয়াতে ! 

বের হওয়ার ক’টা কারণ আছে,
স্বাধীনতা মানে তো কোন বন্দির অধ্যায় নয়
যেখানে সবাই বন্দি রবে !
সব ভালোবাসার মরণ হবে !
মা মাটি ও মানুষের মৃত্যু হবে !
তাহলে স্বাধীনতা কি ?
তা তো মেয়েদের সর্ট কার্ট কাপড়ে চলাফেরা নয় !
বুকের ওড়না ঘাড়ে ঝূলানো নয় !
টাকনুর কাপড় হাটুতে তোলা নয় !

স্বাধীনতা মানে ফূল।
ফুলের ধর্ম কখনও অফুল নয়,
তাই স্বাধীনতার মানে পবিত্রতা
নতুন ভাবে বাঁচার চেতনা
যেখানে আঁধারের ভাব নেই
শুধুই আলো আর আলো।
আমি সেই আলো বুকে বেঁধে রাখি ।

                                                                               ০৩-১২-২০১১

কবিওকবিতা

আমি এক কবি, লেখি সবার সবি
ঝরা ফুল জাগাতে ফুলকলি ফোঁটাতে,
গেয়ে যাই গান আমি স্রষ্টার আঙ্গিনাতে
খোঁলে যায় বাতায়ন ভোরের আলোকা রবি । (॥)

প্রেম প্রিতি ধরণীর, আরো কত কাহিনী দেয় ধরা
আলো কালো দেয়ালের প্রতিবিম্ব চেহারা,
সুখদুঃখ পাশে থাকে রয়ে যায় আমরণ
তাহাও কবিতায় ফোঁটে আবেগি মন,
লেখি ছায়া হয় কায়া থামিতে চায় না
কবে শুরু, শেষ হবে স্রষ্টাবিনা জানি না,
বিশ্ব দুয়ার, যাবে কতদূরে , আমার ছিল তাতে এই দাবি (॥)

আলোছায়া মুখরিত যাহা হয় তাও লেখি
আমি কি জানতাম এমন হবো কাব্য আঁকি,
এ বুকে ভয় হয় হারিয়ে ফেলি যদি গান
কি ভাবে থাকবো সঙ্গিহারা স্বপন হবে ম্লান,
যে অবধি থেকে যাই কবিতায় দামিনী
পরাহত করো না ওগো প্রভূ মোর লেখনী,
বিশ্ব দুয়ার, যাবে কতদূরে, আমার ছিল তাতে এই দাবি (॥)

পাই যদি ছুটি, হয় মোর জুটি, ছন্দের ইশারা
খোঁলে দেই ভাবনা ডায়েরিতে কথার ধারা,
কবর মরণ দাফনের কথা লিখে যাই
ধনী গরিব ধনমান কতকাল তাহা জানাই,
উঁচু নিচু খুব কাছে বেধাবেধ অমানুষি রুপ
কবিতায় রাঙ্গি দেই সেই ধারার বহুরুপ
বিশ্ব দুয়ার, যাবে কতদূর, আমার ছিল তাতে এই দাবি (॥)

কবিওকবিতা

অন্য মায়েরা কেমন হয় তা সত্যিকারে আমি জানি না,
আমার মা'কে আমি সবটুকু জানি,
দীর্ঘ আঠারো বছর পেরিয়ে গেছে বাবা বিদেশে ছিলেন,
সংসারে একটু সচ্ছলতার জন্যে তিনি বউ ও
সন্তানদের ভালোবাসাকে তুচ্ছ করে দূরে পড়ে ছিলেন,
এর মাঝে তিন চারবার হয়তো তিন মাস করে ছূটি নিয়ে দেশে
এসেছিলেন, তার সঠিক হিসেব আমার মনে নেই ।
এতোটা বছর পেরিয়ে গেলেও মা কখনো বাবাকে রাগে
কিছু বলেননি যে, আর কতকাল এভাবে থাকবো ?
কখনো মন খারাপ করে খানা দানা বন্ধ করেন নি
অথবা বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার ভয় দেখান নি ।
আমরা শুধু দুই ভাই
মাধ্যমিক পাস করার পর আমি ঢাকায় চলে যাই,
তার তিন বছর পর আমার ছোট ভাইও চলে যায় ।
আর মা বাড়িতে একদম একা থাকতেন
একা কী খান না খান তিনিই জানতেন।
আমি সকালে বিকেলে ফোন করে জানতে চাইতাম,
মা, দুপুরে কী রেধেছিলেন ? রাতে কী খাবেন ?
মা হেসে বলেন, কী খাবো বাজান, যা খাই সবই বদহজম হয়,
পেটের বামপাশে শক্ত হয়ে থাকে, কোমরের ব্যাথাটা আবার বেড়েছে ।
আমি বলি, তাহলে আগামী শুক্রবার দিন টাঙ্গাইল যান !
মা বলেন, গেলেই তো হাজার দুয়েক টাকা লাগবে ।
আমি বলি, টাকার জন্য চিন্তা করবেন না,
অনেক তো করেছেন, এখন আমরা কী কিছূই করব না ?
তুই কবে আসবি বাজান ?
এই তো গত সপ্তাহে না বাড়ি থেকে এলাম ।
ভুলেই গেছি, মনে হয় কতদিন দেখিনা ।
আমার চোখদ্বয় জলে ভরে যায় ।
সত্যিকার ভালোবাসার মানে কিন্তু সব সময় কাছে থাকা নয়,
দূর থেকেও গভীর ভাবে ভালোবাসা যায়,
এমনটা আমি মায়ের মাঝে বাবার প্রতি দেখেছি ।
ক’দিন হল বাবা দেশে এসেছেন, বাবার শরীরটা বিষণ রকম রোগা,
তাছাড়া কিছুদিন আগে বিদেশে থাকা অবস্থায় বাবা হার্ট এটা্ক করেছিলেন।
সৃষ্টিকর্তার কাছে লাখো শুকরিয়া, বাবাকে কাছে পেয়েছি।
আমি মাকে বলেছি বাবা যেন কোন কাজ না করেন,
অনেক করেছেন, এখন বাকি জীবন দোয়া কালাম করে যাক।
২০-০২-২০১২

কবিওকবিতা

আমার ধারনা হয় আমার মা ছোটকালে কারো প্রেমে পড়েছিলেন,
লোকটাকে আমি হালকা চিনি ও জানি ।
নানা বাড়িতে গেলেই ঐ বাড়িতে টিবি দেখতে যেতাম,
লোকটা মা আমার মাথার হাত বুলিয়ে পাশের কারো সাথে বলতেন-
ওতো লুৎফার বড় ছেলে, ওর বাপটা পাগল ।
আমি কোন কথা না বললেও চুপ করে কথাগুলো শুনতাম টিবির দিকে তাঁকিয়ে,
আর কাউকে বসার জন্য কিছু না দিলেও তিনি টুল
অথবা চেয়ার দিয়ে বলতেন, বস নাতি ।
তার প্রায় পাঁচ বছর পর আপন মামার বাড়িতেই টিবি দেখতাম,
একদিন লোকটা বউ মানে মামী আসেন টিবি দেখতে,
মা তখন আমার পাশে খাটে বসে টিবি দেখতে ছিলেন,
আপন মামীকে বললেন, ভাবী ? ঐ লোকটা যেন আর কোন দিন
এই বাড়িতে টিবি দেখতে না আসে ।
 আমি ভেবে পেলাম না এমন কথা বলার কারণ কী ?
তার একটু পরে মা মামীকে আবার বললেন-
ওরা ধোকাবাজ, মিথ্যেবাদি, ওরা আমার সাথে ছলনা করেছে ।
তারপর একদিন নানীকে বললাম-
 মা’র কী আগে কোথাও বিয়ে ঠিক হয়েছিল ?
নানীর না সুচক কথায়ও আমি স্থির হতে পারিনি ।
অনেক খূঁজেছি আরও কিছু তথ্য বের করতে, পারিনি ।
মাকে তো আর সরাসরি বলা যায় না-
মা তুমি কী আগে প্রেমে পড়েছিলে ?
এখনো লোকটার বাড়ির পাশ দিয়ে গেলে লোকটার মা বলেন-
ঐতো আমাদের লূৎফার ছেলে যাচ্ছে,
ছেলেটা লেখাপড়া করে চাকরি করছে ।
আমাদের লূৎফার ছেলে এমন কথা মানে কী ?
মায়ের সাথে ওরা কী ধোকাবাজি, মিথ্যেবাড়ি ও ছলনা করেছেন ?
আমার এই প্রশ্ন জেগে থাকে।
২৪-০২-২০১২

কবিওকবিতা

কূয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে সকালটা,
দুপা ফেলে ঘাসের ওপর দিয়ে হাঁটতে বেড়িয়েছি
গায়ে ছেঁড়া ময়লা ভরা নীল সার্ট,
সার্টের বুকের ছয়টা বোতামের চারটাই নেই।
নীলিমা বলেছিল তার কামিজের দুটো বোতাম আমায় দিবে,
সেই জন্যে তার বাড়িতে আজ আমার এই যাত্রা ।
কিন্তু কেমন যেন মনে হচ্ছে !
এই সকালে শুধু বোতামের জন্য তার কাছে যাওয়া কি ঠিক হচ্ছে !
ওর আবার রাত জেগে টিবি দেখার অভ্যেস ।
গত রাতে কি টিবি দেখেছে ?
আমাকে দেখে বিরক্ত হবে না তো ?
ফিরে যাবো ?
নাহ্‌ থাক ! কিছু বলে বলুক, আপনজনই তো বলবে ।
বাড়ির উত্তর পাশে আমি দাঁড়িয়ে আছি,
কখন তার ঘরের জানালাটা খুঁলবে !
কখন বোতামের জন্য আমায় তার ঘরে ডাকবে !
ও কি তার বিছানায় আমার এই ছেঁড়া কাপড়ে বসতে দিবে ?
আবার ভিক্ষুক ভেবে আমায় দু মুঠো চাল দিয়ে বিদায় করবে না তো ?
তা কি হয় ? বলবো আমি অপু, সার্টের বোতামের জন্য এসেছি।

২৬-১১-২০১১


কবিওকবিতা

কেউ ফুল হাতে আমার পানে এগুই নি,
বলেনি একবারও তোমায় ভালোবাসি।
স্কুলে বেলায় দেখেছি আমার সহপাঠিরা সুন্দুরি মেয়েদের হাত ধরতো,
কখনো তাদের ওড়না ধরতো,
আরও কিছু করতো,
তবুও তারা বাধা দিতো না ।
কিন্তু আমি কিছূ বলতে গেলেই গালাগাল শুনতে হতো,
এমন কি মেয়েরা তাদের পায়ের জুতো খূঁলতে চাইতো ।
আমি বাধ্য হয়ে বলতাম, সরি,
আর অমন হবে না ।
এতো বছর পর সেদিন একজনকে বললাম, পেরেম চাই ।
আমার বুকের কাঁপুনি না থামতেই
দেখি মেয়েটি বত্রিশটা দাঁত বের করে বলছে,
এই মাগির পুত ?
 আমার এই শরীর এক জনের রেজিষ্টিরি করা
তুই নতুন করে আবার করতে চাস ?
আমার ভাগ্যাটই খারাপ,
যাকে কিছু বলি সেই অমন করা থাকে ।
এখন আর কাউকে কিছূ বলি না
কী দরকার আছে বলার !
বলার আগেই তো বউয়ের থে পাচ্ছি
তা ওদের চেয়ে মন্দ তো নয়
বরং পিওরিটি, নিজেই তার সিকিউরিটি
১১-০১-২০১

কবিওকবিতা

আমার ইচ্ছে করে তোমার বুকে
ঘুমিয়ে এক দন্ড সুখ নিতে,
পৃথিবীর কোথাও গিয়ে আমি অমন সুখ পাইনি,
ছোট বেলায় শোনতাম মায়ের বুকেই নাকি শ্রেষ্ট সুখ নিহিত,
তা অবশ্য মিথ্যে নয় ।
মায়ের বুক আর তোমার বুক তো অভিন্ন নয়,
তা থেকে আলাদা আলাদা রঙের চুম্বন বের হয়;
দুটো চুম্বনের সীমানা আলাদা ভাবে অসীম।
ধুলোর সাথে তুমি তো নও, পুস্পকলির সাথে
একই বাঁধনে সেই তো বেঁধেছি,
ভোরের শীত উপেক্ষা করে বকুল ফুলের মালা গেঁথেছি।
কই, তুমি তো আমার জন্য কোন মালাই গাঁথনি।
আজ কোন অভিযোগের পর্ব নয়,
আজ কোন মাতালের মাতলামি কথা দিয়ে
তোমার মন বিষিয়ে তোলতে চাই না,
আজ একান্তই তোমাকে পেতে এসেছি,
বাহু ডোরে জীবনের কাছে জীবনের দামে
এক মুঠো সুখ নিতে এসেছি।
বিশ্বাস করো আর নাই বা করো
জীবনের অনেকটা পথ শেষ হয়ে গেছে
আর তো দুঃখ বইতে পারি না
আর তো বিরহে সময় পার করতে ইচ্ছে হয় না।
২০-০২-২০১২

sislam8405

{Facebook#https://www.facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

luoman থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget