Latest Post

কবি ও কবিতা

যাইনি আমি মুছে, এই ধুলায়-
পানির সাথে মিশে কোন সুদূরে,
পূর্বে যাহা ছিলাম একটু বদলে নেই
রেখেছি ভালবাসা অন্তরে ।
তুমি পেরেছো মুছতে তোমা হৃদয় থেকে,
দোষ তোমার দিব না-
স্বপ্ন হয়ে জেগে আছো চোখে ।
তুমি নীল আকাশের মাঝে একটি চাঁদ,
আমার ভুল শুধু জানি একটাই
ভালবেসে তোমায় করেছি অপরাধ।
কখন যেন বিকেল শেষ হয়েছে
আমার হৃদয় বুঝতে পারেনি,
সে ছিল অন্ধ বিশ্বাসের দৃষ্টি মেলে
তুমি তারে বুঝতে চাওনি।
ভুল করেছি কিনা জানি না,
তবুও তুমি আমার অঙ্গে মাখা জোছনা,
বুকের খাঁচা মেলে রেখেছি,
যদি পাই তোমায় সাঁঝের আগে-
সত্যি ফুল ফুটবে চিরন্তন প্রেমের।
অথৈই গভীর জলে দু-জনার মন,
ভেলায় ভেসে ভেসে কোন-
অচেনা সাগরে মিশে যাবে
যদি দুটি হৃদয়ের হয় স্পন্দন।
                                                         তারিখ ও সময়:- ০১/০৭/২০০৫, ১৫-২৫

কবি ও কবিতা

রাত নয়টার ফ্লাইটে খলিল মিয়া ঢাকা ত্যাগ করবেন। যাবেন বিদেশ টাকা রোজগারের জন্য । বেলা এগারোটার মধ্যে বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। সাথে এগিয়ে দিতে কালুর মামা যান।
দু-মাস মাস পেরিয়ে যায় খলিল মিয়ার কোন খোঁজ খবর পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়ির সবাই চিন্তায় খাওয়া দাওয়া ছেড়েই দিয়েছে। বীণা শুধু জানতে চায় বাবা কবে আসবে মা ? বাবার কথা খুব মনে পড়ছে।
তাহের মিয়া বাহির থেকে ডাকছেন, কালু ঘরে আছিস ? এই নি তোর বাপের চিঠি এসেছে। কালু দ্রত ঘরের বাহিরে এসে চিঠিটা নিয়ে বীণা ও মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ছে। সবার মনে একটা অজানা আশঙ্কা, না জানি কী খবর ! চিঠি পড়া শেষ, মনটা মোটামুটি শান্ত হল । 
এভাবেই খলিল মিয়ার বিদেশ কাল পাঁচ বছর পেরিয়ে গেল। বিদেশ থেকে নিয়মিত টাকা পাঠান। সেই টাকা দিয়ে দুই সন্তানের পড়াশোনাসহ সংসার চলছে।

খলিল মিয়া পাঁচ ক্লাস পর্যন্ত লেখা পড়া করেছিলেন তারপর আর লেখাপড়া করার ভাগ্য হয়নি। তিনি অন্যের জমি বর্গা চাষ করতেন, সারাদিন কাজ করে রাতে ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ছেলে কী লেখাপড়া করছে তা দেখার জন্যে দুই মাইল দূরে নিজের কাজ বাদ দিয়ে মাঝে মাঝে কালুর স্কুলে যান। কালু তার নানার বাড়িতে থেকে ওখানের স্কুলে পড়ে। ক্লাসে ঊপস্থিতি কম। তাতে খলিল মিয়া সন্তুষ্টি হতে পারেন না। ওই স্কুল বাদ দিয়ে আবার নিজের গ্রামের স্কুলে ভর্তি করে দেন। এভাবেই চলতে থাকে ।
    পরীক্ষা শেষে ভাই বোন মিলে নানা নানীর বাড়ি বেড়াতে যায়। ওখান থেকে মেঝ মামীর মেয়ে হয়েছে তাকে দেখতে যাবে তাদের বাড়িতে। নৌকায় চড়ে যাবে। নৌকায় চড়ে আত্মীয় বাড়ি যাওয়ার মজাই আলাদা। এক লাফে নৌকা থেকে নেমে দৌড়ে মামীর বাড়ির দিকে চলে যায়।
    কী সুন্দর চেহারা ! আকাশ থেকে যেন চাঁদ খানা ছিড়ে এসেছে, আর তা সবাই দেখছে। বীণা বলল, ভাইয়া কিছু ভাবছো?
    কী আর ভাববো বিধাতার সৃষ্টি দেখলাম ।
    দুপুরের খাওয়া শেষ করে বিকেলের দিকে ওরা সবাই আবার বাড়ি ফিরলো। বীণা বলল, ভাইয়া মেয়েটি নাম কি রেখেছে?
   ঝরনা ।
   কী সুন্দর নাম ! মনে হয় পাহাড় থেকে কলকল শব্দে জল নামছে, তাই না?
   কবি হয়ে গেলি নাকি?

খলিল মিয়া ভাবছেন এই অভাবের সংসারে কিভাবে সন্তান দুটোকে মানুষ করব ! বিদেশ গেলে কেমন হয় ! কিন্তু এত টাকা পাব কোথায় ? যেখানে দু-বেলা দু-মুঠো ভাত জোটে না, সেখানে আবার বিদেশ !
      বছিরন বিবি কাঁধে হাত দিয়ে বললেন, কি ভাবছো ?
      ভাবছি এই অভাবের সংসার আর কত দূর ! সন্তানদের লেখাপড়া করাতে হবে। বিদেশ গেলে কেমন হয়?
      ঠিক কথা বলেছো। আমার বাপের বাড়ি থেকে হাজার বিশেক টাকা আনতে পারবো আর বাকি টাকা আমাদের ঘরের পূর্ব দিকের জমিটা বিক্রি করলে হয়ে যাবে।
      বাপের পুরানো জমিটা বিক্রি করলে তো আর কিছুই থাকলো না। থাক যাবো না।
      জমি দিয়ে তুমি কি করবে, সন্তানদের যদি শিক্ষিত করতে না পারলে? এতোকাল তো অন্যের কাছে মুজুরী খাটতেই গেল।
      খলিল মিয়া ভাবলো যুক্তিটা মন্দ হয় না। সন্ধ্যা দিকে কালু ও বীণা বাড়ি ফিরল। মা, মা, বলে মাকে জড়িয়ে ধরলো ওরা ভাই বোন। বছিরন বিবি বলেন, সাত দিন যেন সাত বছরের মত মনে হয়েছে। বীণা বলে মা আমরা ভাই বোন যদি কোথাও হারিয়ে যাই তাহলে তুমি কি করবে? 
      অমন কথা বলতে নেই। তোরা আমার প্রাণ তোরা আমার জীবন।
      কাদের মিয়া দাঁড়িয়ে সন্তান ও বউয়ের দৃশ্য দেখে ভাবছেন, এই সন্তানদের রেখে কেমনে আমি বিদেশ গিয়ে থাকবো ! কেমনে দু-চোখের আড়াল করে রাখবো ! পরক্ষণে আবার নিজেকে বুঝায়। সন্তান ও স্ত্রীর এই হাসি ভরা মুখ দেখতে চাইলে আমাকে বিদেশ গিয়ে টাকা উপার্জন করতেই হবে, এই আমার প্রতিজ্ঞা। 
      বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল হয়েছে। কালু প্রথম হয়েছে। বাপ ছেলেকে নিয়ে যে আশা করতেন আজ তার বাস্তবায়ন শুরু । খলিল মিয়া বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়ে খোদার কাছে দোয়া করছেন- তুমি বাজানরে অনেক জ্ঞান বুদ্ধি দান করো।

      গ্রামের দুষ্ট ছেলেদের সাথে কালু চলাফেরা করে। রাত দশটার সময় বাড়ি ফেরে। একদিন ওর মা বলেন, তোর এই ব্যবহারের জন্য কী তোর বাপ বিদেশ থাকতেছে এত কষ্ট করে?
      স্কুলের গন্ডি কালু এখনো পার করতে পারেনি। লেখাপড়ায় তেমন ভালো না। বাড়ি থেকে প্রতিদিন স্কুলের কথা বলে যায় কিন্তু স্কুলে যায়না, কোথায় যেন চলে যায়। ক্লাসের উপস্থিতি খুবই কম। মায়ের কথা কালু শুনে না। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষায় দুইবারই ফেল। তবুও সে খবর বাপকে জানানো হয়নি।
      মায়ের কথায় কালু কোন জবাব দেয় না। ঘরে গিয়ে বসে ভাবে, আমি ভালো হয়ে যাবো। ভালো ভাবে লেখাপড়া করবো। বাবা মায়ের আশা পূরণ করব। পরের দিন সকালে কালু স্কুলে যায় । আজ কোন স্কুল পালানো নয়, সরাসরি ক্লাসে যাচ্ছে। পথে তার একই বয়সের অনেকেই বলল, আবার স্কুলে যাওয়া শুরু করলি নাকি? কালু বলে কি আর করবো, এভাবে আর কতদিন বাউন্ডুলে হয়ে ঘুরবো? তোরাও আমার পথে যোগ দে।
     রাত অনেক হয়েছে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিলে কী সময়ের কথা মনে থাকে ! পথ দিয়ে যাচ্ছে আর বিন্দিয়ার কথা ভাবছে। হঠাৎ উহ্‌ শব্দে কালু মাটিতে পড়ে গেল। মাথা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। আর কিছু মনে নেই।
      ঘটনাটা দুদিন আগেই হয়েছে। স্কুলে গানের অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে কালু ও বিন্দিয়াসহ অনেকেই গান গেয়েছে। ভালো গানের জন্য পুরস্কারে ব্যবস্থাও ছিল। কালু ও বিন্দিয়া তা পায়। বিন্দিয়ার চাচাতো ভাই ববিও গান গেয়েছিল কিন্তু পুরস্কার পায়নি।
      স্যার হাত তুলে কালু ও বিন্দিয়াকে ভালো গানের জন্য প্রশংসা করে। ববির তা সহ্য হয়নি। পরের দিন কালু ও বিন্দিয়া হাতে হাত রেখে অনেকক্ষণ হেঁটে হেঁটে গল্পও করেছে, তা ববি দেখেছে। নিজের চাচাতো বোনের হাতে হাত রেখেছে কালু ! যে করেই হোক ওকে শাস্তি পেতেই হবে, ববির এই প্রতিজ্ঞা। দিনটাও পেয়ে যায়। সাথে ববির আরও সহযোগি ছিল।
      এক বিপদের ওপর আরেক বিপদ। কিছুক্ষণ আগেই বিদেশ থেকে খবর এসেছে খলিল মিয়ার অবস্থা খারাপ। তিনি অসর্তকতায় উপর দিকে তাঁকিয়ে কাজ করতেই পা ফসকে এক কুপে পড়ে যান। অনেক্ষণ পরে তাঁকে তুলতেই দেখে অর্ধেক মৃত হয়ে গেছে। প্রয়োজনিয় অক্সিজেনের অভাব ছিল কুপে। হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বলা যায় না কী হবে !
      কালুও হাসপাতাল বেডে শুয়ে আছে, সাথে মা ও বোন। অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে শরীরটা সাদাটে হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে এক ব্যাগ রক্তও দেওয়া হয়েছে। বাপের খবর কালুকে জানানো হয়নি। শুধু বছিরন বিবি ও বীণা তা ভেবে আড়ালে চোখের জল ফেলছে।
      পরিবার থেকে সকল স্বপ্ন ধুয়ে মুছে গেল। ক’দিন আগেও স্বপ্নের সাঁকো সচল ছিল, পরিবারে সুখ ছিল। কালু নেই, তার বাপও নেই। বছিরন বিবি এক গভীর জলে পড়ে হাবুডুবু করছে, কোন ঠিক ঠিকানা নেই।
বীণার বয়স হয়েছে। টাকার অভাবে বিয়ে দিতে পারছেন না মা। অনেক ঘটকের কাছে বলে রাখলেও লাভ হচ্ছে না। মা মেয়ে শুয়ে আছে। ঘরের বেড়া পাট খড়ি দিয়ে বাঁধা। রাতে বেড়ায় মাঝে মাঝে খটখচ শব্দ করে। মায়ের মন চমকে উঠে। ঘরে যুবতি মেয়ে, কে না আবার কোন চিন্তায় কী করে ! নিজের চিন্তা তিনি করেন না, মেয়েটোকে বিয়ে দিতে পারলেই সকল পাওয়া হবে।
     বাড়িতে অনেক মানুষের ভীড়। এক সাথে মা ও মেয়ের জানাযার হবে। গত রাতেই ঘটনাটা হয়েছে। ছিল ঝড়ের রাত। চিৎকার করলেও বেশী দূরে শব্দ যায়নি। এসেছিল বীণাকে তুলে নিতে, তাতে বছিরন বিবি বাধা দেওয়ায় তাঁকেও মরতে হল।
       কেউ নেই সংসারে। কে মামলা করবে? সরকার বাদী হয়ে করবে? কোন ফায়দা নেই। কয়েকবার হাজিরা চলবে আসামীদের, তারপর সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে। একটা পরিবার ধ্বংশ হল। সেই সংসারের কটা মানুষের স্বপ্ন আশা চুরমার হয়ে গেল।
                                                               সমাপ্ত






কবি ও কবিতাএলার্ম দিয়ে রাখা ঘড়িটা বেজে ওঠছে। অবিরাম ভাবে এক মিনিট বাজার পর পাঁচ মিনিট বিরতি দিয়ে আবার শুরু হয়। এভাবেই আধা ঘন্টা ধরে চলছে। রাতের বেলায় ক্ষুদ্র শব্দও অনেক দূর চলে যায়। আর তা যদি হয় জোছনা রাতে তবে তো কথাই নেই। জোছনা ও অন্ধকার রাতে শব্দ আলাদা ভাবে কম  কি বেশী দূরের যাওয়ার কারণ নেই।  যে যেটা পছন্দ করে সে সেটাকেই এগিয়ে রাখবে। লেখকের মনোভাব হয়তো জোছনার প্রতি দূর্বল আছে।  তাই তিনি জোছনাকে প্রধান্য দিচ্ছে।
    যা-ই হোক, আজ জোছনা নেই, অন্ধকারের সাথে সামান্য মেঘের ভাব। এই বৃষ্টি নামছে আবার এই থেসে যাচ্ছে। মজু এই অল্প বৃষ্টির মধ্যেই কাক ভেজার মত হয়ে কাঁপছে। এখনো বাসায় যেতে অনেক পথ পড়ে আছে। শহরই পেরুতে পারেনি, তারপর সেই গ্রাম। বাড়িতে যাওয়ার ভাবনা বাদ দিয়ে আশেপাশেই কোথাও রাতটা পার করার কথা ভাবছে। কিন্তু কে দেবে তাকে এমন ভরসা !
    এই এলাকায় মজুর অনেক যাতায়াত থাকলেও পরিচিত কেউ নেই। তাছাড়া দোকানপাট বন্ধ করে বাসায় চলে গেছে সবাই। যারা জেগে আছে তারা সবাই নাইট গার্ড কিংবা চিরচেনা কুকুরের দলপল।
    রাতের বেলায় সাধারণত ওরা সবাই একত্রে বসে আলাপ করে। গার্ডদের সাথে কুকুরদের ভালো মিল মহাব্বত থাকে। ভয়ের সময় যখন চিৎকার করার সুযোগ থাকে না তখন ওই কুকুরগুলোই ঘেউ ঘেউ করে লোকজনকে জাগাতে সাহায্য করে। চোর কিংবা ডাকাতদের পরিকল্পনা বিফলে যায়।
    মজু এদিক সেদিক তাঁকিয়ে কোন মানুষের দেখা না পেয়ে কিছুটা ভয়ে পেলো। ব্যাগের পকেটে থাকা একটা কলা বের করে খেতে খেতে মূল পথের দিয়ে এগিয়ে যায়। একটা ছোট আলো দেখা যাচ্ছে, পাশেই কয়েকজন গল্প করছে। মজু পকেটে থাকা ক’টা টাকা পায়ের সু-য়ের মোজার ভিতরে রেখে মাথার চুল চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে গিয়ে বলল, এই যে ভাই,  আমি খুব বিপদে পড়েছি। একটু সাহায্য করতে পারেন ?
    দূর থেকে অনেক লোকের আলাপচারিতার ভাব দেখা গেলেও আসলে ততজন নয়। দু্‌জন লোকের একজন ইয়া মোটা কালো ও খাটো, পরের জনও কালো তবে কঙ্কাল। সুট টাই পড়া দেখে ওরা দুজন বলল, তা মাল পানি আছে নাকি? কিছূ ফালান, তয় ভাইবা দেখার পামু কি করা যায়।
    মাল পানি কি মজু বুঝতে না পেয়ে আবার জানতে চায়, আমার কাছে কোন পানি নেই, একটু ছিল কলা খাওয়ার পর খেয়েছি।
    লোক দুটো শোয়া থেকে ওঠে তাদের নিজেদের মাঝে কথা বলে, আজকের ইনকাম মনে হয় বালা অইবো। মজুর দিকে তাঁকিয়ে  বলে, বাড়ি কেলা, কই যাইতান ?
    এমন খাপ ছাড়া আঞ্চলিক ভাষা মজু বুঝতে না পেয়ে অবিরাম মাথা নাড়তে থাকে। এমন বিপদের সময় কোন কিছুতে না বলতে নেই। মোটা লোকটা উঠে মজুর দাঁড়িয়ে থাকার চারপাশে একটা চক্কর দেয়। সাথে থাকা লাঁঠি দিযে মজুর ব্যাগে খোঁচা দেয়। বলে, ব্যাগে কি আছে ? চিকন লোকটাও একই ভাবে চক্কর দেয়। মোটা লোকটাকে সন্ত্রাসী ধরনের মনে হলেও চিকনটাকে মনে হয়না। হয়তো নতুন এসেছে, শেখার চেষ্টা করছে।
    ফিল্মে একটা নায়িকাকে ঘিরে যেমন গুন্ডারা চারদিকে চক্কর দেয় তেমন করছে। মজু বুঝতে পারল, কিছু একটা হবে। ব্যাগে কিছু নেই কিন্তু' সমস্যা হল কিছুই না পেয়ে যদি ছোরা টোরা দিয়ে আঘাত করে ! তখন তো মুখ থেকে সত্য কথা বের হয়ে আসবে। ওই ক'টা টাকার জন্যে তো একটা প্রেমিক জীবন মরে যেতে পারেনা।
    সকল ভয় ফেলে মজু বলল, কি ব্যাপার বলুন তো এমন পাগলের মত ঘুরছেন কেন ? বলুন, আমায় কোন সাহায্য করতে পারবেন কিনা ? ওইতো সামনে আরেকটা আলো দেখা যাচ্ছে নয় তো ওদিকে যাবো।
    মোটা লোকটার চোখের চাহনি ভালো মনে হলো না। মজুকে রেখে সে একটু ভিতরে গেল। মজু পরের জনের কাছে জানতে চায়, টেনিং- এর মেয়াদ কয় দিন হল ? ভালো ভাবে সব কিছু পরখ করো, যখন একা মূল কাজে নেমে পড়বে ভালোভাবে না শিখলে বসের ছোরার ধাক্কা খাবে।
    চিকন লোকটা দাঁড়িয়ে ভাবছে, এ দেখি গুরুর চেয়ে বড় গুরু। আর দেরি না করে সেও ভিতর চলে যায়। একটু পরে দুজনেই একটা চেয়ার নিয়ে এসে মজুকে বসতে দিয়ে বলে, বস আপনার কাজ কোন এলাকায় ? কাশেম ভাইকে চেনেন ? ক’দিন আগেই তিনি বলেছিলেন নতুন বস আসার কথা। আপনি, মনে হয় সেই লোক। বস ভুল হয়ে গেছে, ক্ষমা করে দিন। আপনাকে এক্ষুণি থাকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।
    মজু হাসবে না কাঁদবে ভেবে পাচ্ছে না। কি বললাম আর কি হল ! সবলের সাথে কখনো দূর্বল ভাব দেখাতে নেই, সবলরা নয়তো দূর্বলকে আরও দূর্বল মনে করে আঘাত করবে ।
    মজুর ক্ষুধা পেয়েছে, বলল, সুটকি মাছের ঝোল দিয়ে ভাত হবে ?
    বস মাফ করেন, এমন পঁচা মাছের ঝোল আপনি খাবেন তা মানায় না, বোয়াল মাছের ঝোল রাঁধা আছে। আজই কাশেম ভাই পাঠিয়েছে, মনে হয় আপনারই জন্যে।
    মজুর জন্য থাকার ব্যবস্থা হল। ভাবছে, কোন ভাবে যদি ওরা জানতে পারে আমি কিছূই না তবে মাগার কাল্লা থাকবে না। শুয়ে শুয়ে মজু অনেক কিছুই ভাবছে। এখন রাত দুইটার কাছাকাছি, আর ঘন্টা দুই পরেই ফজরের আযান হবে, তার আগেই বিদায় হতে হবে। আসলজন এসে গেলে আমাকে কেউ বাঁচাতে পারবেনা। বাহিরে ওদের দুজনের সাথে আর ক'জন মিলে পাঁচ ছয়জন হয়েছে। নিজেদের মাঝে আলাপ হচ্ছে, আজ অন্য সব কাজ বাদ, বসের সেবা করতে হবে। সেবার কমতির খবর ছোট বস জানলে মরার পর লাশ কবরেরও যাবেনা।
    মজু ভাবছে, প্রথমে কোন ভরসা না পাওয়াই ছিল শূভ, এখন পেয়েও মহা সমস্যা। বুকের ভিতরে কাঁপা কাঁপা ভাব। বিভিন্ন বুদ্ধির ভীড়ে আসল যে বুদ্ধিটা এখান থেকে মুক্ত হওয়া পথ বের করবে তা ধরা দিচ্ছে না। নিজের মাথায় দুটো মৃধূ থাপ্পড় দিলেও কাজ হচ্ছেনা। মজুর বুদ্ধির সবই সমানতরাল, মানে যখন সমস্যায় পড়বে তখন খুলে যাবে বুদ্ধির কারখানা।
    মজু বাথরুমে ঢুকে বেশী করে পানি দিয়ে হাত মুখ ধুয়ে নিল। মরার আগে আর হয়তো পানি পাওয়া যাবেনা। টেবিলে রাখা স্নো পাউডার মুখে ও মাথায় তেল মেখে নিল। পকেট থেকে বের করা ছোট আয়নার মাঝে নিজের চেহেরাটা শেষবারের মত দেখে নিল। পায়ের মোজায় রাখা টাকাটা বের করে বুক পকেটে রাখল, যাতে মরার পর কেউ ওগুলো নিয়ে খরচ করতে পারে।
    মজু এখন ফন্দি করছে, কীভাবে বের হবে। কোন পদ্দতিতে সফল হওয়া যাবে ! হঠাৎ করেই বলল, এই তোরাব কই গেলি ?
    চিকন লোকটা দ্রত এসে বলল, আমি তমিজ, কি করতে হবে বলুন বস ?
    যাক- বাবা নাম তাহলে জানা গেল, প্রথমেই সফল। শোন আমি এসেছি সবার কাজ স্বচক্ষে গোপনে দেখার জন্য, ঘূমানোর জন্যে নয়। বুঝলি ? তাই আমি এখন বের হবো। তোরা এখানেই থাক, চালাকি করে আবার কাছের কাউকে আমি আসছি বলিস না।
    তমিজের পা ষাট কিঃমিঃ বেগে কাঁপছে। হয়তো ভয়ে ও পড়েই যাবে। তার আগেই সরতে হবে, ভাবছে মজু।
    কিছূ দূর যাওয়ার পরই তার মত একজন লোককে মজু সামনে পেলো। কাঁধে ব্যাগ ঝুলানো। মুখটা শুকিয়ে গেছে। জানতে চাইল মজুর কাছে, কোথায় যাবেনা ভাই ?
    অপরিচিত লোকদের কাছে রাতের বেলায় দূরে যাবো, বিপদে পড়েছি এমন কথা বলতে নেই। তবুও মজু বলল, চলেন একটু ওদিকে গিয়ে বসি। আমি আর আপনি হয়তো একই বিপদে পড়েছি। কোন দিকে যাবেন ? দেখি উভয়ে উভয়কে কোন সহযোগিতা করতে পারি কিনা?
    না, আমি অবশ্য খুব বিপদে নেই, হয়তো আমার লোকেরা কাছেই আছে। ফটিক ও তমিজ।
    তমিজের নাম শুনেই মজু বসা থেকে ওঠে দাঁড়ালো। মনে ভয় লেগে গেল। ভাবছে, তমিজরা যে বসের আশায় আমাকে এতো আদর যত্ন করল উনি মনে হয় তিনি। কোন রকম ছুঁতো দিয়ে অন্য দিকে থাকতে পারে এমন দিশা দিয়ে লোকটাকে যেতে বলল।
    মজু পেছনে আর না তাঁকিয়ে পথ ধরে যাইতেছে। ড্রিম লাইটের আলোতে চলতে কোন ভয়ই হচ্ছে না। একটু পর পরই একটা করে দুর পাল্লার গাড়ি দ্রত চলে যাচ্ছে। আর কুকুদের ঘেউ ঘেউ তো নতুন কিছু নয়। এখন ভয় অনেকটা নেই, তবুও...। হাত তুলে মজু দূর পাল্লার গাড়িকে থামাতে চেষ্টা করছে। সব চেষ্টাই বৃথা। এক কিঃমিঃ হাঁটার পর একটু করে পেছনে তাঁকায়, ভয়টা একদম কাটেনি। পেছন থেকে কোন গাড়ির লাইট দেখলেই একটু আড়ালে গিয়ে দাঁড়ায়, বলা যায় না শালারা যদি এসে...। বসকে পেয়ে যুক্তি করে না আবার মারতে আসে মজুকে।
    এতোক্ষণে যে ওদের মাঝে তাকে নিয়ে আলাপ শুরু হয়ে গেছে তা মজু নিশ্চিত ভাবে বুঝে গেছে। এখন মজুকে ওরা পেলে কচু কাটার মত খন্ড খন্ড করবে। প্রায় দশটা গাড়ি দেখে মজু আড়ালে গিয়ে পালিয়েছিল। না, ওরা জানলেও আর আমাকে খূঁজতে আসবেনা। আকাশে মেঘ নেই, এই সময়ে পথের মধ্য দিয়ে আকাশে তাঁকিয়ে গান গেয়ে হাঁটার মজাই আলাদা। সাথে যদি কোন বন্ধু থাকে তাহলে তো সর্বত্তম।
    মজু ভাবছে, স্রষ্টার ইচ্ছায় যদি বাড়ি যেতে পারি তবে কালই ওদের কৃর্তী কলাপের কথা পুলিশকে জানাবো। র‌্যাবের কাছে খূঁলে বলব। ভালো সেজে ভন্ডামি কাজ তখন বেরে হয়ে যাবে।
    পেছন থেকে একটা বাইক হর্ন বাজিয়ে আসছে। মজু মাঝ পথ থেকে হাঁটা বাদ দিয়ে সাইট হল। বাইকটা আর এগুলো না। মজুর সামনে গিয়ে থামল। মজু বাইকের লাইটের কারণে কিছু দেখতে পেলো না। তমিজসহ সেই মোটা লোকটা নেমে সালাম দিয়ে মজুকে বলল, বস, দেখতে এলাম কোন কোন দিকে আপনি খোঁজ খবর নিতেছেন।
    মজুর গলা শুকিয়ে গেছে। পা কাঁপছে। এবার বুঝি আর রক্ষ্যে নেই। মাথা না ঘুরিয়ে চোখদ্বয় চারদিকে হালকা পোচ দিয়ে দেখল বাঁচার কোন পথ আছে কিনা। ডান দিকে লম্বা একটা খাল চলে গেছে। খালে পানি আছে। বাম দিকে কিছূ জোপ জঙ্গলের মত দেখা যায়। সামনে পেছনে মূল সড়ক। এই যখন অবস্থা তখনই কিছুক্ষণ আগে দেখা লোকটি বাইক থেকে নেমে এলো লম্বা একটা দা হাতে নিয়ে। 
    মজুর আত্মা যেন আর বুকে নেই। তিন দিকে তারা আর মধ্যে মজু। একজন ছাড়া বাকি দুজনেই মজুর চেয়ে শক্তিশালি হবে। বিপদের সময় মজুর মাথা থেকে হঠাৎ করেই বুদ্ধি বের হয়। এখন বের হবে কিনা তা ভাবছে। লোক তিনজন প্রশ্ন করে যাচ্ছে। মজু কোন জবাব দিচ্ছে না। তিনজনের হাতে দা ছাড়াও আরও কিছু থাকতে পারে।
    মজু নিজের প্যান্টের চেইন খুলে বলল, সরে দাঁড়ান একটু পেচ্ছাব করতে দিন। মরার আগে আসামী যা বলে তা শোনা উচিত।
    কীসের পেচ্ছার করা মজুর ! এক ফন্দি মাত্র। দ্রুত প্যান্ট ও সার্ট খূলে ব্যাগে ভরল। জুতা পড়ে দৌড়ানো যায় না। তাছাড়া টাকা তো মোজার ভিতরে আছে। মজু বসের কাছে এগিয়ে গিয়ে বলল, মরার পর অনেক সময় শুয়ে থাকতে হবে, ব্যায়াম করা যাবেনা। স্লিম বডিটা থুলথুলে হয়ে যাবো। তাই আজ একটু দৌড়িয়ে লই। আপনার যা দেহ ব্যয়াম না করলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। ডায়বেটিক হতে পারে।
    তিনজনই ভাবল কথাটা মন্দ নয়। সবার আগে বসকে দিয়ে সিরিয়ালই মজু সবার শেষের আগে দাঁঁড়িয়ে সবাই দৌড়াতে থাকে। এক কিঃমিঃ যাওয়ার পর মজু পেছন থেকে চিকন মানুষটার গলায় ধরে শ্বাস নালিটা ভেঙে ফেলে ধাক্কা দিয়ে খালে ফেলে দেয়। একটুপর সামনেরজন বলে তমিজ গেল কই?
    মজু বলে আমরা যেতে থাকি, ও পেচ্ছাব করে আসছে।
    পরের দুটোই মোটা। যা-ই হোক। জায়গা মত ধরতে পারলেই কয়েক সেকেন্ডেই অর্ধমরা কিংবা মারা যাবে।  কোন দিন কাউকে একটা ঘুসিও মজু কাউকে দেয়নি। সেখানে একটা আস্ত মানুষকে মেরে ফেলল ! শরীরে ঘামের মধ্যেও সাহসের একটা জোস সৃষ্টি হচ্ছে মজুর। প্রয়োজনে অনেক কিছুই করতে হয়। যা করার তারাতাড়ি করতে হবে, এমন ভেবে মজু সামনের লোকটাকে নিজের পা দিয়ে একটু আটকে দেয়। ধপাস করে পড়ে যায়। বস পেছনে না তাঁকিয়ে চলছে। ও বাবা গো বলার আগেই একই ধারায় গলা চেপে ধরে মজু। ডান পায়ের গোড়া দিয়ে শ্বাস নালিতে দুটো লাথি দেয়।
    দুটো শেষ। এখন যদি বস সব জেনেও যায় কোন সমস্যা করতে পারবে না। পেছন থেকে কোন আনা-গোনা না পাওয়ায় বস পেছনে তাঁকায়। মজু বলে ওদের দুজনেরই হাগুর টান পড়েছে, আসেন আমরা আবার দাঁড়িয়ে থাকবো কেন?
    ওসবের টান নেই আমার, তোর থাকলে সেরে ল।
    আমার ভয় করে, চলেন না একটু, কাছেই দাঁড়িয়ে থাকবেন।
    বস নিজের নাক  চেপে ধরেও আগাম গুয়ের গন্ধ পেলেন। মরার আগে আসামীর আবদার শুনতে হয়,তা বুঝে বললেন, ঠিক আছে চলেন।
    মজুর ছোরা কিংবা বন্দুক চালানোর অভ্যেস না থাকলেও বাংলার বাঁশ চালানোর অভ্যেস আছে। বসার আগে পাশের কোথাও থেকে একটা বাঁশ জোগার করে।
    বস বলে ও দিয়ে কী হবে ?
    শৃগালের ভয় আছে না? আপনি কি ভয় পান ওকে? আর কথা নয়, আপনি দাঁড়ান, তারাতারি বসে পড়ি নয়তো কাপড় নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। পানি ? সমস্যা হয়ে গেল যে বস, আপনি একটু ব্যবস্থা করেন না।
    কীসের হাগুর টান? সবই মজুর চালাকি, ইচ্ছে করলে মজু এখন পালাতে পারে কিন্তু তা করবে না। শালার বসের বাচ্চা বসকে পোন্দানি না দিয়ে যাওয়া নয়। বস একটা সিগারেট ধরিয়ে সুখ টান দিচ্ছে। মজু সে প্যান্ট অর্ধেক খোঁলা অবস্থায়ই পেছন থেকে বাঁশ দিয়ে আঘাত করে সকল দুই নাম্বারি শেষ করে দিল।

    চোখের ঝিম ঝিম ভাব দুহাতে ঘসে মজু বিছানার ওপর বসে থাকে। এলার্মের ঘড়িটা বন্ধ করে, ঘরের চালের দিকে তাঁকিয়ে ভাবে, এ আমি স্বপ্নে কি করলাম ! তিন তিনটা মানুষকে আস্ত খতম করলাম। ভয়ে মজুর গায়ের পশম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। নিজের হাতের দিতে নজর ফেলে বলছে, এই হাতদ্বয় ! তোরা মানুষ হয়ে মানুষকে মারতে পারলি !   
    ইতিমধ্যে চারদিকে কোলাহল বাড়তে থাকে। ফজরের আযান দিতে আর বেশী দেরি নেই। মজু ওজু করে মসজিদে গিয়ে নামাজর পড়ে স্রষ্টার কাছে ক্ষমার জন্য কাঁদতে থাকে।
                            সমাপ্ত    
                               ০৩-০৮-২০১২
         

কবি ও কবিতা

চুম্বন দাও রক্তের ভিতরে মিশে হোক কলরব,
গান গাইতে পারিনা, নয়তো-
আমি সেই কলরবে সুর তুলে চিৎকার করে বলতাম,
আমার প্রিয়া আমায় ভালোবেসেছে,
সাত আসমান পেরিয়ে যাবে সেই বিশালতা।
চুম্বন দাও দেহের থার্মোমিটারে, তার গতি বেড়ে যাক
খুঁলে যাক বাতাসের বহুতল
যেখানে আমি স্বপ্নের সাঁকো বেঁধেছি।
ওখানেই আমি হাঁটবো, তোমার চুলের গন্ধ নেবো
তোমার আঁচলে আমার মুখ ঢেকে যাবে।
চুম্বন দাও জীবনের বুকে,
কোষ থেকে কোষান্তরে চলে যাক চেতনা বোধ,
দেহের প্রতিটি শিরা ধমনী দুরন্ত হোক।
আমি কলরব শুনতে চাই, কোন নীরবতা ভালো লাগে না,
কামনার রসের রসবোধ আমি বুঝিনা,
আমায় বুঝাবে কী ?
এই তোমার কাছে এলাম, একটা কিছু নিয়ে যাবোই।
চুম্বন দাও ঠোঁটে ঠোঁঁট মেখে,
লাগাতার হরতাল ভেঙে যাক সমাজ সংসার থেকে,
এক জোড়া উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা কী
চুম্বন ছাড়া জীবন বরবাদ করতে পারে ?
পারে না, পারা উচিত নয়
তা হতে হবে বৈধ উপায়ে, অবৈধ নয়।

২১-০২-২০১২


কবি ও কবিতা

ধরো আমার এই হাত,
এই হাত শুধু তোমারি স্পর্শ পেয়েছে,
অন্য কিছু ধরলেও তার মাঝে স্পর্শ ছিল না,
ভালবাসার কোন ছোঁয়া ছিল না,
ছিল না তাতে হৃদয়ের লেনাদেনা।
এখানে শুধু তুমি আর আমি,
দুটি মন, একই রেখাংশে,
চার জোড়া হাত পা, একই বৃত্তের ভিতরে।
এখন বিকেল, বাতাসের সাথে আমরা-
মিলেছি প্রেমান-র পালে,
অনেকগুলো স্বপ্ন আমাদের চোখে ভিড় করছে,
একটা ছোট্ট ঘর, একটা ছোট্ট সংসার,
একটা নেশা, এক জোড়া মাতাল মাতালি-
মেতেছে প্রেমের সপ্তডিঙ্গায় ভর করে ;
তারপর কি ?

কবি অ কবিতা

আজ আমার মন ভালো নেই, 
দখিনের বাতাস থেমে গেছে,
যতদূর এই চোখদ্বয় যাচ্ছে, 
মনে হচ্ছে সকল অস্বপ্নেরা আমার পানে দৌড়ে আসছে
জানালা বেয়ে প্রেমের বেলা, হাত মেলানো সময়, সব পিঙ্গল হয়ে গেছে
কোথাও কোন রুপ নেই, সকলই কেবল ধূয়া আর ধূয়া।
এই তো ক’দিন আগের কথা, নিজের লেখা কবিতাগুলো কত মধুর মনে হতো,
অবিরাম শুধু লিখেই যেতাম ।
    যাকে দেখাতাম সেই বলতো চালিয়ে যাও, সোনার পালঙ্কের দেখা পেয়ে যাবে।
আমি বলতাম, ওর জন্য তো কবিরা কবিতা লেখে না, মন চায় লেখে,
আপনি শিক্ষিত লোক, লেখেন না একটা ভালো কবিতা। 
পেতেও পারেন নোবেল সম্মান।
দু-হাত আমার জানালার রেলিং ধরে আছে,
 কি যেন নেই, কি নেই ?
টেবিলের কাছে গিয়ে দেখি, সকালে লেখা কবিতাটা সেখানেই পড়ে আছে,
কেউ নেয় নি কিংবা ছিঁড়ে ফেলে নি। 
কে ছিঁড়বে ! আমি লিখেছি আমারি ছিঁড়ে ফেলা উচিত।

                                                                  ০৫-০১-২০১২

কবিতা ও কবিতা


আমার বাড়ির দক্ষিণপাশের একটা বরই গাছ রোপন করেছিলাম,
ভেবেছিলাম ওর থেকে বরই পাবো,
তাও অনেক সময় পেরিয়ে গেছে।
মাঝেই মাঝেই তার পাতা ছাগল খেয়ে ফেলতো
একদিন তো মাথাটাই খেয়ে ফেলল।
আমি গাছের চারপাশে কাঁটার বেড়া দেওয়ার পরে আর খেতে পারেনি
গাছটার গোড়ায় নিয়মিত জল ঢালায় এক সময় তা আবার সুস্থ্য হয়ে ওঠে,
গাছটার মাথার নাগাল ছাগলের মুখ আর পেলো না।
গাছটা বড় হলেও বরই দিচ্ছে না,
আমি কী করব ? জল দেওয়া বন্ধ করে দিব ? না।
তারপর থেকে জল দিলেও মন থেকে ওকে আর চাইনি।
একদিন বাবা বলেন, বাজান !
নতুন ঘর দিতে হলে কাঠের দরকার,
তার চেয়ে বরই গাছটা চিঁড়লে অনেক কাঠ পাওয়া যাবে।
আমি বাবার কথার কোন জবাব না দিয়ে গাছটার কাছে গেলাম।
হাত বাড়িয়ে বললাম- বিশ্বাস কর বন্ধু,
আমি তোর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ বাবার কাছে করিনি,
যার কারণে তিনি তোকে কাটতে চাচ্ছেন।
আমার হাতের তলায় ভেজা অনুভব করলাম,
এ কী ! হাতের তলা তো শুকনো ছিল।
আমার বুঝতে বাদ রইল না যে, বরই গাছটি নিজের মৃত্যুর ভরে কাঁদছে।
যেদিন বরই কেনার টাকা দিয়ে এই গাছটা কিনেছিলাম
আরও বেশী বরই পাবো বলে।
বরই পাওয়া হয়নি কিন্তু এক করুণ কাহিনী হতে যাচ্ছে।
 আমি কী করব ! হয়তো বাবার কথাই ঠিক হবে।
কিছুদিন পরে ঐ গাছের তক্কায় বানানো চেয়ায়ে বসে থাকবো,
আমি না বসলেও আমার সন্তানরা বসবে।



                        ২৯-০১-২০১২

কবি ও কবিতা

দূরে যাও, দূরেই তো আছি আমি
অদেখার দেয়াল হয়ে ভাঙনের সুরে সুরে,
কোন স্বপ্ন তো এখন আমায় রাঙায়না
ডাকে না হাত ইশারায়,
বলে না- এসো বন্ধু আপন আপনে।
সেই দুরন- বেলার কালগুলো আমার সাথে নেই,
সেই ফুল পাপিয়ার মন মনিহার
আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।
কিছূই তো দিয়ে যায় নি
আমি শুধু বুনেছি নতুন করে নতুনা,
বন্ধু ছাড়া কি নতুনা হয় ? হয় না।
যে নতুনায় আমি আবদ্ধ তা এক নিছক ঘর,
যে ঘরে আমি অস্বপ্ন আঁকি;
স্বপ্ন আঁকা তো ভূলের ছিল।
                                                                  ২৯-১১-২০১১

কবি ও কবিতা

স্বাধীনতাকে আমি দেখেছি...
শীতের সকালে কুয়াশার সাদা চাদরে
পৃথিবীর বুকে একাকারে
গরম কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে
মুখ থেকে বের হওয়া ভাপে
কাথার ভিতরে লুকিয়ে থাকা আরামে।

স্বাধীনতাকে আমি দেখেছি...
বক পক্ষির লম্বা লম্বা ঠোঁটে
সম্মুখ দিকে মেলে উড়ে চলা
দল বেঁধে হাজারো কক কক শব্দে,
গন্তব্য যাত্রায় ঝগড়াহীন
শৃংখল নমুনায়।

স্বাধীনতাকে আমি দেখেছি...
বাতাসের মাঝে বাতাস খেলে
নারীর মাথার চুল উড়াউড়ি করে
গিয়ে পড়ে জমিনের বুকে লুকিয়ে
থাকা সাত আসমান শান্তির ইশারায়
বেঁচে থাকার আশায়।

স্বাধীনতাকে আমি দেখেছি...
নর নারীর একত্র ঠোঁটের রসে
ঝাঁঝালো তৃপ্তির অসীম বাঁধনে
লেগে থাকা অবিচ্ছেদ অংশে
সার্থক জন্ম নেওয়ার কথা জানার
জন্যে হুমড়ি খেয়ে পড়ায়।
                        ০৫-১২-২০১১

কবি ও কবিতা
আমার এক হাতে আগুন আরেক হাতে জল,
হাত দুটো যদি দুপাশে নিয়ে রাখি
তবে তার মধ্যের ফাঁরাক অংশ অনেক হয়ে যায়।
আমি সেখানে স্বাধীনতা রেখেছি,
বহু যতনে মুড়ির মোড়া, চিড়ার মোড়া খাওয়ায়ে ঘুম পাড়ায়ে রেখেছি।
ও শুধূ খেতে চায়, খাই খাই করে।
এতো খাবার পাই কোথায় ?
ও কি রসগোল্লা সন্দেশ চমচম সাথে করে নিয়ে এসেছে ?
কই আমার হাতে তো দিল না।
লুকিয়ে লুকিয়ে খাচ্ছে বুঝি ?
দেখিতো  এখন কি করে ?
হায় আল্লাহ্‌ ! কে যেন আমার দু হাতই ভেঙে দিয়েছে।
এমন কাজ কে করলো ?
মানুষ ছাড়া কেউ নয়।
নিজেরা কি নিজেদেরকে মারতে পারে ?
স্বাধীনতা আমাদের সবার মাঝে রক্ত সত্তা
  আমরা কি তা ভূলে যাচ্ছি কিংবা মুছে ফেলছি ?

sislam8405

{Facebook#https://www.facebook.com}

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

luoman থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget